
সুরাট: সুরাট পুলিশের হাতে অবশেষে ধরা পড়লেন ২০ বছর ধরে পলাতক (Rahman Dacoit)কুখ্যাত অপরাধী রহমান ডাকাইত। ভারতের অপরাধ জগতের এক ভয়ঙ্কর নাম, যিনি ‘ইরানি ডেরা’ গ্যাংয়ের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনি এখন সুরাট ক্রাইম ব্রাঞ্চের হেফাজতে। এই গ্রেফতারকে পুলিশের এক বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এই ব্যক্তি দীর্ঘ দুই দশক ধরে আইনের চোখ এড়িয়ে গিয়ে দেশের ১৪টি রাজ্যে অপরাধের জাল বিস্তার করেছিলেন।
আসল নাম আবিদ আলি, ওরফে রাজু ইরানি, ওরফে রহমান ডাকাইত। ভোয়ালের (মধ্যপ্রদেশ) ইরানি ডেরা এলাকা থেকে তিনি তার গ্যাং পরিচালনা করতেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর ভোয়ালে বিশাল পুলিশ অভিযান চালানো হয়।
ইন্ডিয়ান আইডল বিজয়ী গায়কের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পাহাড়
প্রায় ১৫০ জন পুলিশ অফিসার ইরানি ডেরায় হানা দেন, কিন্তু রহমান ডাকাইত সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর তিনি মহারাষ্ট্র হয়ে গুজরাটের সুরাটে আশ্রয় নেন। গোপন সূত্রের খবর পেয়ে সুরাট ক্রাইম ব্রাঞ্চের টিম লালগেট এলাকায় অভিযান চালায়।
রহমান ডাকাইতের অপরাধের তালিকা দীর্ঘ। লুটপাট, প্রতারণা, অগ্নিসংযোগ, জালিয়াতি – এসব অভিযোগে মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তিনি অত্যন্ত চতুর ছিলেন। নকল সিবিআই অফিসার সেজে মানুষকে ভয় দেখাতেন, আবার সাধু-সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে শিকারের কাছে যেতেন। এই ছদ্মবেশের কৌশল তাকে বারবার পুলিশের হাত থেকে বাঁচিয়েছে।
তার গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজ করত। লুটের টাকায় তিনি বিলাসী জীবনযাপন করতেন – দামি গাড়ি, মোটরসাইকেল, এমনকি আরবি ঘোড়া কিনতেন। পুলিশের ভাষায়, তার এই বিলাসিতা তার অপরাধেরই প্রমাণ।এই নাম ‘রহমান ডাকাইত’ কীভাবে এল? পুলিশ জানিয়েছে, তার পুরনো সম্পর্ক ছিল কিছু ইরানি ডাকাতদের সঙ্গে, আর তার নৃশংস প্রতিশোধের জন্যই এই ডাকনাম পড়ে।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি পুলিশকে তাড়া খাইয়ে বেড়িয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুরাটে এসে তিনি নতুন টার্গেট খুঁজছিলেন, আর সেখানেই তার পতন ঘটে।সুরাট ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডিসিপি ভবেশ রোজিয়া জানিয়েছেন, এই গ্রেপ্তার গ্যাংটিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অনেক পুরনো মামলার সমাধান এখন সহজ হবে। রহমান ডাকাইতের গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে। পুলিশ আশা করছে, তার জেরার মাধ্যমে আরও অনেক অপরাধীর নাম বেরিয়ে আসবে।





