
পটনা: বিহারের পূর্ণিয়া (Purnia)জেলায় একটি ভয়াবহ এবং হৃদয়বিদারক ঘটনায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। এই ঘটনা সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শনিবার রাতে ডগরুয়া থানা এলাকার বরিয়ার চৌকের কাছে এক বিবাহিতা মহিলা (প্রায় ২৪ বছর বয়সী) বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ একটি গাড়ি তার কাছে এসে থামে এবং গাড়ি থেকে নেমে আসা কয়েকজন যুবক তাকে জোর করে ধরে গাড়িতে তুলে নেয়।
তারা তাকে মারধর করে এবং ডগরুয়া ব্যারিয়ারের কাছে একটি মোটর গ্যারেজের (জয়া ট্রেডার্স) একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যায়।সেখানে ছয়জন যুবক মিলে প্রথমে তাকে জোর করে নাচতে বাধ্য করে। এরপর জোর করে মদ খাওয়ায় এবং সারা রাত ধরে নৃশংসভাবে শারীরিক নির্যাতন করে। অভিযুক্তরা একে একে তার সঙ্গে অত্যাচার চালায়।
বাংলাদেশে ঢুকে জিহাদি নেটওয়ার্ক তৈরির ঘোষণা লস্করের কাসুরির
ঘটনার পর পাঁচজন অভিযুক্ত পালিয়ে যায়, কিন্তু প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ জুনাইদ (যিনি এই গ্যারেজের সঞ্চালক এবং স্থানীয় উপমুখিয়ার স্বামী) অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে নেশায় অচেতন হয়ে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন।পীড়িতা মহিলা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছেন। তিনি জুনাইদের মোবাইল ফোন থেকে ১১২ নম্বরে কল করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষ খুলে জুনাইদকে গ্রেফতার করে।
ডগরুয়া থানার এসআই পূর্ণিমা কুমারী জানিয়েছেন, পীড়িতার অবস্থা খুবই গুরুতর। তাকে পূর্ণিয়া গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (জিএমসিএইচ) ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝি লড়াই করছেন।পুলিশ এই ঘটনায় তিন নামজাদা এবং তিন অজ্ঞাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছে।
অন্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। থানা প্রভারী রাজেশ কুমার বলেছেন, এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস অপরাধ এবং দোষীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।এই ঘটনা পূর্ণিয়া জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাতের বেলায় মহিলাদের একা চলাফেরা করা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে, এমন নির্জন জায়গায় এ ধরনের অপরাধ কীভাবে ঘটতে পারে এবং পুলিশের টহলদারি কোথায় ছিল। সমাজকর্মী এবং মহিলা সংগঠনগুলো এই ঘটনার নিন্দা করে দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।










