Public Appeals for Peace During Ram Navami Celebrations in Bengal
পশ্চিমবঙ্গে রাম নবমী (ram navami) উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যের পুলিশ জনগণকে এই উৎসব পালনে বাধা দিচ্ছে। শনিবার বিজেপি সাংসদ অরুণ গোভিল রাজ্য সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেছেন, রাম নবমীর শোভাযাত্রাগুলোকে অনুমতি দেওয়া হোক। তিনি দাবি করেছেন, এই ধরনের শোভাযাত্রায় কখনোই আগ্রাসন বা হিংসার ঘটনা না ঘটে ।
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোভিল বলেন
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোভিল বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আবেদন জানাতে চাই, তারা যেন তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। এই শোভাযাত্রাগুলোতে কখনো আগ্রাসন থাকে না, তাহলে তারা কেন এমন ভাবে? আমি এখনো বুঝতে পারছি না।” গোভিল আরও বলেন, গোটা দেশে “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের উচিত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনর্বিচার করা। তিনি বলেন, “যখনই রাম নবমীর শোভাযাত্রা হয়, আমি অনেকগুলো দেখেছি এবং তাতে অংশ নিয়েছি। এগুলো সবসময় শান্তিপূর্ণ হয়। ৫০০ বছর পর রাম মন্দির তৈরি হয়েছে, আর গোটা দেশে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সরকারের উচিত তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবা।”
বিজেপির অভিযোগ
এর আগে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে পুলিশ তাকে রাম নবমী (ram navami) উদযাপনের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার প্রতিটি বিষয়ে তাদের হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে যেতে বাধ্য করছে।
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধিকারী বলেন, “আমাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ আমাদের বাধা দিচ্ছে। প্রতিটি বিষয়ে আমাদের হাইকোর্ট আর সুপ্রিম কোর্টে যেতে হচ্ছে।”
অধিকারী আদালতে যাওয়ার পর শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট হাওড়ায় রাম নবমীর শোভাযাত্রার জন্য একটি আদেশ জারি করে। আদালতের নির্দেশে শোভাযাত্রা বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রায় কোনো অস্ত্র বহন করা যাবে না এবং মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রা আয়োজনের জন্য পুলিশের তত্ত্বাবধানে এটি হবে। অঞ্জনী পুত্র সেনা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং দুর্গা বাহিনীর শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই শোভাযাত্রায় ৫০০ জন অংশ নিতে পারবেন এবং সব শোভাযাত্রা জিটি রোডের একই পথে অনুষ্ঠিত হবে।
একা শুভেন্দুই মেদিনীপুরে সাড়ে তিন হাজার চাকরি দিয়েছিলেন, বিস্ফোরক কল্যাণ
উৎসবের (ram navami) প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা
রাম নবমী (ram navami) উদযাপনের প্রস্তুতি পশ্চিমবঙ্গে জোরকদমে চলছে। হাওড়া জেলার বাজার ও দোকানগুলো পতাকা এবং পোস্টার দিয়ে সেজে উঠেছে। আগামী ৬ এপ্রিল সারা দেশে এই উৎসব পালিত হবে। শান্তিপূর্ণ উদযাপন নিশ্চিত করতে কলকাতা এবং হাওড়ায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা উৎসবের জন্য উৎসাহিত এবং বাজারে কেনাকাটার ভিড় বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক
বিজেপি নেতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, রাজ্য সরকার বরাবরই বলে আসছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। গত বছরও রাম নবমীর সময় কিছু এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল, যার জেরে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
বিজেপি নেতারা যেখানে এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ করছেন, সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, জননিরাপত্তাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। হাইকোর্টের নির্দেশের পর শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হলেও, কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশা
হাওড়া ও কলকাতার বাসিন্দারা চান, রাম নবমী শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হোক। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা চাই উৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হোক। রাজনীতি যেন এর মধ্যে না আসে।” পুলিশের তৎপরতা এবং আদালতের নির্দেশে এবারের উৎসব শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাম নবমীকে ঘিরে উৎসাহের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও, জনগণের প্রত্যাশা শান্তি ও সম্প্রীতির। সরকার এবং প্রশাসনের উপর দায়িত্ব রয়েছে এই প্রত্যাশা পূরণের।