
নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহান ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে (Prithviraj Chouhan)। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপকে সমর্থন করার পর এবার তিনি ভেনিজুয়েলার মতো পরিস্থিতি ভারতে কামনা করেছেন যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অপহরণ করবেন! এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে।
বিজেপি একে ‘দেশবিরোধী’ বলে সমালোচনা করছে, অন্যদিকে কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে। চৌহানের এই কথা কি কংগ্রেসের অফিসিয়াল অবস্থান, নাকি ব্যক্তিগত মতামত এই প্রশ্নে এখন তীব্র বিতর্ক চলছে।সোমবার একটি জনসভায় চৌহান বলেন, “ভেনিজুয়েলায় যা ঘটেছে, তা রাষ্ট্র সংঘের চার্টার এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে। একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করা হয়েছে। ভারতে কি এমন কিছু ঘটবে? মিস্টার ট্রাম্প কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করবেন?”
ভোটার লিস্ট আপডেট: SIR-এর প্রথম পর্বেই ৩ কোটি নাম বাদ পড়ল যোগী রাজ্যে
এই মন্তব্য ভেনিজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণ এবং গ্রেফতার প্রসঙ্গে এসেছে। চৌহানের কথায় স্পষ্ট যে তিনি ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে এই ঘটনার তুলনা করছেন, যা অনেকে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে অপ্রত্যক্ষ আক্রমণ।
বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেছেন, “এটি কংগ্রেসের মানসিকতা প্রকাশ করে। তারা দেশের নির্বাচিত নেতৃত্বকে বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অপসারণ চায়।” এই মন্তব্যের পটভূমিতে চাভানের সাম্প্রতিক বিতর্কগুলো উল্লেখ্য। গত মাসে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “ভারত প্রথম দিনেই পরাজিত হয়েছে।”
এই অপারেশন ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের একটি অংশ, যেখানে ভারতীয় বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই কথা সেনাবাহিনীর অপমান বলে বিজেপি সমালোচনা করেছে, কিন্তু চৌহান অপোলজি করতে অস্বীকার করে বলেন, “সংবিধান আমাকে প্রশ্ন করার অধিকার দেয়।”
একইভাবে, নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি উমর খালিদের সমর্থনে চিঠি লিখলে চাভান তাঁকে সমর্থন করে বলেন, “ভারতীয় উত্সের ব্যক্তি হিসেবে মামদানির হস্তক্ষেপের অধিকার আছে।” বিজেপির অভিযোগ, এটি বিদেশি হস্তক্ষেপকে উস্কে দেওয়া।
চৌহানের এই ধারাবাহিক মন্তব্য কংগ্রেসের জন্য অস্বস্তিকর। রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতারা এখনও সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেননি, কিন্তু দলীয় সূত্রে খবর, এটি কংগ্রেসের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একদিকে চৌহানের সমর্থকরা বলছেন, তিনি সাহসের সঙ্গে সরকারের নীতির সমালোচনা করছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা একে ‘দেশবিরোধী মানসিকতা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।










