
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে (Prayagraj) এবার মাঘ মাসের পুণ্যস্নানে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী সমবেত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই পুণ্যস্নানে ভিড় জমিয়েছেন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ। বিশেষত, গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর ত্রিবেণী সঙ্গমে পুণ্যস্নানের জন্য উপস্থিত হচ্ছেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। মাঘ মাসের প্রথম স্নান একদিকে যেমন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এই সময় স্নান করলে পুণ্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস করেন ভারতীয়রা।
মাঘ মাসের বিশেষ পুণ্যস্নান উপলক্ষে, প্রয়াগরাজে (Prayagraj) এক নৈসর্গিক দৃশ্য তৈরি হয়েছে। ভোরের স্নানে অংশগ্রহণ করতে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ঠান্ডা উপেক্ষা করে নদীর পাড়ে জমায়েত হয়েছেন। শীতের তীব্রতা সত্ত্বেও পুণ্যস্নানের জন্য তাদের উৎসাহে কমতি নেই। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা এই রীতি অনুযায়ী, পুণ্যার্থীরা এই সময় গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করতে আসে, যেটি তাদের জন্য পুণ্যলাভের সোপান হিসেবে বিবেচিত হয়।
এবারের মাঘ মেলায় গঙ্গা স্নানে অংশ নিতে আসা পুণ্যার্থীদের সংখ্যা যে বিপুল তা সহজেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশজুড়ে নানা রাজ্য থেকে মানুষ আসছেন। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, এবং মধ্যপ্রদেশের পুণ্যার্থীদের (Prayagraj) সংখ্যা ব্যাপক। শুধু ভারত থেকেই নয়, বিদেশ থেকেও অনেকে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে এই পুণ্যস্নানে অংশগ্রহণ করছেন। বিশেষ করে, মেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করছে। নদীর তীরে পুণ্যস্নান ও আধ্যাত্মিক ধ্যান-ধ্যান চলছে, যা আশপাশের পরিবেশে এক শান্তিময় ও মধুর অনুভূতি সৃষ্টি করছে।
মাঘ মেলা উপলক্ষে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং স্নান করার জন্য আগ্রহ তাদের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের এক মনোমুগ্ধকর উদাহরণ হয়ে উঠেছে। মেলার অংশগ্রহণকারী প্রায় প্রত্যেকেই ঐতিহ্যগত আচার পালন করছেন। পাশাপাশি, ভক্তিমূলক গান, কীর্তন, হরিনাম সঙ্গীত ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশ আরও মধুর হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবিচ্ছিন্ন মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী ও নিরাপত্তা গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, (Prayagraj) স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করে স্নান ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করছে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা এবং সহায়তার জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি পরিষেবাগুলি প্রদান করতে স্বাস্থ্য ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
এছাড়া, পুণ্যার্থীদের (Prayagraj) সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাস্তা পরিষ্কার রাখা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, নদী পাড়ের তীরবর্তী এলাকাগুলিতে দ্রুত স্নান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ স্নান ক্ষেত্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।










