নতুন বছরের শুরুতে একদিকে সৌহার্দ্যের বার্তা, (Pralay missile)অন্যদিকে শক্ত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। এই দুই বিপরীত কিন্তু সমান্তরাল বার্তাই তুলে ধরল ভারত। একইসঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি আরও এক ধাপ বাড়িয়ে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) সফলভাবে ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রের সালভো লঞ্চ পরীক্ষা সম্পন্ন করল।
নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তায় ভারত শান্তি, সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কথা তুলে ধরে। কূটনৈতিক মহলের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে এই বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নানা সময়ে ওঠানামা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বছরের শুরুতে শুভেচ্ছা বিনিময় একটি কৌশলগত ও প্রতীকী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে একই দিনে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে বড় সাফল্যের খবর সামনে এল, তা নতুন করে নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। ডিআরডিও জানিয়েছে, অত্যাধুনিক ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি সফল সালভো লঞ্চ করা হয়েছে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে। পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্র দু’টি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে এবং সমস্ত ফ্লাইট অবজেক্টিভ সফলভাবে পূরণ হয়েছে।
প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি সলিড প্রপেলান্ট চালিত কোয়াসি-ব্যালিস্টিক মিসাইল। এতে অত্যাধুনিক গাইডেন্স ও ন্যাভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এর নির্ভুলতা অত্যন্ত বেশি। প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং বিভিন্ন ধরণের টার্গেটে আঘাত হানতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সালভো লঞ্চ পরীক্ষার সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ, খুব কম সময়ের মধ্যে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের সক্ষমতা একটি বড় কৌশলগত সুবিধা।
ডিআরডিও-র এক আধিকারিকের কথায়, “প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা প্রমাণ করে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কতটা উন্নত হয়েছে। এটি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে।” প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
একদিকে প্রতিবেশী দেশগুলিকে শান্তির বার্তা, অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এই দুই দিক একসঙ্গে চলাই ভারতের কৌশল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ভারত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে শান্তি ও সহযোগিতায় বিশ্বাসী হলেও, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করবে না।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই দুই খবর ঘিরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, নববর্ষের শুভেচ্ছা সৌহার্দ্যের প্রতীক, আবার কেউ বলছেন প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শক্তির উদাহরণ।
অনেকেই একে ‘শান্তির বার্তা, শক্তির প্রস্তুতি’ এই দুয়ের সমন্বয় হিসেবে দেখছেন। সব মিলিয়ে, নতুন বছরের প্রথম দিনেই ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি স্পষ্ট বার্তা দিল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা যেমন আছে, তেমনই দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনওরকম ঢিলেমি নেই।
