পুঞ্চ-রাজৌরিতে গোয়েন্দাদের নজরে ৩০০ অনুপ্রবেশকারী

poonch-rajouri-narco-terror-exfiltrates-under-scanner

শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী পুঞ্চ ও রাজৌরি (Poonch Rajouri)জেলায় নরকো-সন্ত্রাসের নেটওয়ার্ক ভাঙতে বড়সড় অভিযানে নেমেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। পাকিস্তান বা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ আশ্রয় নেওয়া ৩০০-র বেশি প্রাক্তন অনুপ্রবেশকারী এখন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির আওতায়। অভিযোগ, সীমান্তের ওপার থেকে বসেই এরা মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলাররা পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলার স্থানীয় যুবকদের টার্গেট করছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যুবকদের উগ্রপন্থার পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। লোভ দেখানো হচ্ছে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিলে আর্থিক সুবিধা ও নিরাপত্তার আশ্বাস মিলবে। ইতিমধ্যেই একাধিক যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং নিয়োগের চেষ্টা হয়েছে বলেও গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ।

   

যোগীর সঙ্গে হঠাৎ বৈঠকে মোদী!

নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাক্তন অনুপ্রবেশকারীদের বড় অংশ পুঞ্চ জেলার সুরানকোট, মেনধর, মানসি গুরসাই এবং সাওজিয়ান এলাকার বাসিন্দা। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলগুলিকে বরাবরই সংবেদনশীল হিসেবে ধরা হয়। ফলে এখানে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি পুঞ্চ পুলিশ গুরসাই এলাকার বাসিন্দা, পাকিস্তানে অবস্থানরত কুখ্যাত সন্ত্রাসী হ্যান্ডলার রফিক নাই ওরফে সুলতানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। মেনধরের নার গ্রামে অবস্থিত চার মারলা কৃষিজমি পুলিশ সংযুক্ত করেছে। রফিক নাই একাধিক গুরুতর অপরাধে ওয়ান্টেড এবং পুঞ্চ-রাজৌরি সেক্টরে মাদক ও অস্ত্র পাচার, প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত করার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে অভিযোগ।

এখানেই থেমে থাকেনি প্রশাসনের অভিযান। পুঞ্চ জেলার মান্ডি এলাকায় আরেক পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলার জামাল লোন ওরফে জামালার ৬ ক্যানাল ১৩ মারলা জমিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জামাল লোন একজন ঘোষিত পলাতক অপরাধী, যিনি পিওকে-তে পালিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত রয়েছেন।

নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই প্রবণতা নতুন নয়। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলার বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে সীমান্ত পেরিয়ে পিওকে-তে গিয়েছিলেন। সেসময় মসজিদ থেকে ঘোষণার মাধ্যমে ভাতা ও কাজের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অনেকেই বুঝতে পারেন, তাঁরা পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর ফাঁদে পড়েছেন।

আইএসআই এই মানুষদের জঙ্গি গাইড, মাদক পাচারকারী এবং ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে ব্যবহার করেছে। বহু ক্ষেত্রেই জোর করে বা ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে তাঁদের এই কাজে বাধ্য করা হয়েছিল। একজন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই ধরনের উপাদানের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে।

ভবিষ্যতে আরও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।” প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান পুঞ্চ-রাজৌরি এলাকায় সন্ত্রাসের শিকড় উপড়ে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন