
শ্রীনগর, ১২ ডিসেম্বর: হিমালয়ের কুয়াশাচ্ছন্ন সীমান্তে আবারও সন্ত্রাসের (Poonch Infiltration Attempt)ছায়া নেমে এসেছিল, কিন্তু ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সজাগতা সেই ছায়াকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি) বরাবর গতকাল রাতে এক দল সন্দেহভাজন জঙ্গির অনুপ্রবেশের চেষ্টা বিফল হয়। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে তাদের ঘিরে ফেলা হয়।
কমপক্ষে তিন জঙ্গিকে জীবন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনা যেন পাকিস্তানের নতুন উস্কানি তারা যেন ইচ্ছা করে ‘অপারেশন সিন্দুর ২’-এর দাবি জানাচ্ছে, যা ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সতর্ক করে তুলেছে।গতকাল রাত সোয়া এগারোটায় পুঞ্চ সেক্টরের সংবেদনশীল এলাকায় বিএসএফের সার্ভেইল্যান্স গ্রিডে জঙ্গিদের গতিবিধি ধরা পড়ে।
‘মেসি ভগবান’কে ফ্রেম বন্দি করতে ভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দারা, ২ নং গেটে একী কান্ড?
অন্ধকারের আড়ালে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল তারা। বিএসএফের দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় অভিযান শুরু হয়, এবং আর্মির সহযোগিতায় তাদের ঘিরে ফেলা হয়। ফলে তিনজন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে। একজনের কাছ থেকে একে -৪৭ রাইফেল, পিস্তল, ম্যাগাজিন এবং প্রচুর গুলি উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া স্যাটেলাইট ফোনসহ উন্নত যন্ত্রপাতি এবং যুদ্ধকারী সরঞ্জামের একটা ক্যাশও পাওয়া গেছে।
বিএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, “এই অনুপ্রবেশের পেছনে পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা স্পষ্ট। তারা আমাদের সতর্কতা পরীক্ষা করছে, কিন্তু আমরা প্রস্তুত।” এই ঘটনা এলওসি-র সেই অংশে ঘটেছে, যা বারামুল্লা, কুপওয়ারা এবং বান্ডিপোরা জেলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত।এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা যেন ‘অপারেশন সিঁদুরের ছায়া ফেলছে। মে মাসে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ নিরীহ নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিশোধে ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে।
এই অভিযানে ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান দখলের জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) নয়টি জঙ্গি শিবিরে ২৪টি মিসাইল হামলা চালায়। লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদের মতো গোষ্ঠীর পরিকাঠামো ধ্বংস হয়। অভিযানের পর সাম্বা জেলায় আরেকটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা বিফল হয়, যাতে সাত সন্ত্রাসী নিহত হয়। বিএসএফ জম্মুর আইজি অশোক যাদব বলেছেন, “অপারেশন সিঁদুর চলতেই থাকবে। পাকিস্তান যতবারই চেষ্টা করুক, আমরা প্রত্যেকটা উস্কানিকে শিক্ষা দেব।” এই বছর এলওসি-তে চার অনুপ্রবেশের চেষ্টা বিফল করা হয়েছে যাতে আট জঙ্গি নিহত, পাঁচজন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের এই উস্কানি যেন ‘অপারেশন সিন্দুর ২’-এর দাবি জানাচ্ছে। সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানি রেঞ্জাররা ড্রোন এবং মিসাইল হামলার চেষ্টা করেছে জম্মু, পাঠানকোট এবং উধমপুরে। গুজরাট, পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং জম্মু ও কাশ্মীরে ড্রোন আক্রমণ রুখে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজছে, ব্ল্যাকআউট হচ্ছে এবং এয়ারপোর্টগুলো সতর্ক।
পহেলগাঁও হামলার পর থেকে সীমান্তে ২৪ঘণ্টার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিএসএফ এবং আর্মি যৌথভাবে লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষা করছে। ড্রাগ স্মাগলিং এবং ড্রোন অ্যাকটিভিটি রোধে নতুন কৌশল চালু হয়েছে। জম্মু, সাম্বা এবং কাঠুয়া জেলায় আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফের ভূমিকা অটুট।










