
কলকাতা: SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন শেষ (West Bengal SIR Voter List)। এবার ১৬ তারিখের অপেক্ষা এবং এই দিনই খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে। তবে SIR শেষে নির্বাচন কমিশনের হাতে উঠে এসেছে নয়া তথ্য। মমতা বন্দোপাধ্যায় থেকে অগ্নিমিত্রা পাল প্রত্যেকের বিধানসভায় বাদ পড়েছে প্রচুর ভুয়ো এবং মৃত ভোটারের নাম।
কারণ পরিষ্কার, রাজ্যের বহু হাই-প্রোফাইল বিধানসভা এলাকায় দশ-দশ হাজার ভুয়ো ও মৃত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অর্থাৎ এতদিন ধরে ভোটার তালিকায় যে গরমিলের অভিযোগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তুলছিল, এবার কমিশন সেই অভিযোগের অনেকটাই বাস্তব রূপ দেখছে।
নিলামে এই পাঁচ তারকাকে টার্গেট শাহরুখের দলের!
বিধানসভা হিসেবে দেখতে গেলে দেখা যাবে, ভবানীপুর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ৪৪,৭৮৭ নাম বাদ, নন্দীগ্রাম (শুভেন্দু অধিকারী) ১০,৫৯৯ নাম বাদ। আবার কলকাতা বন্দর ফিরহাদ হাকিমের বিধানসভায় ৬৩,৭৩০ নাম বাদ, টালিগঞ্জে (অরূপ বিশ্বাস) – ৩৫,৩০৯ নাম বাদ, শিলিগুড়িতে (শঙ্কর ঘোষ) – ৩১,১৮১ নাম বাদ, দমদমে (ব্রাত্য বসু) – ৩৩,৮৬২ নাম বাদ, বালুরঘাটে (অশোক লাহিড়ী) – ১১,২১৯ নাম বাদ, উত্তর দমদমে (চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য) – ৩৩,৯১২ নাম বাদ গিয়েছে।
আবার শ্যামপুকুর (শশী পাঁজা) – ৪২,৩০৩ নাম বাদ, বালিগঞ্জ (বাবুল সুপ্রিয়) – ৬৫,১৭১ নাম বাদ, বেহালা পূর্ব (রত্না চট্টোপাধ্যায়) – ৫৩,০৩৬ নাম বাদ, বেহালা পশ্চিম (পার্থ চট্টোপাধ্যায়) – ৫২,২৪৭ নাম বাদ, চন্দননগর (ইন্দ্রনীল সেন) – ২৫,৪৭৮ নাম বাদ, শিবপুর (মনোজ তিওয়ারি) – ৩৩,৫০৫ নাম বাদ এবং আসানসোল দক্ষিণ (অগ্নিমিত্রা পাল) – ৩৯,২০২ নাম বাদ গিয়েছে
এই তালিকা দেখেই স্পষ্ট, নির্বাচন কমিশন এবার ব্যাপক মাত্রায় তথ্য যাচাইয়ের কাজ করেছে এবং বহু বছরের জমে থাকা “ডেড ভোটার” বা “ভুয়ো ভোটার” সমস্যাকে ধরতে সক্ষম হয়েছে। ভোটার তালিকায় এত ব্যাপক শুদ্ধিকরণকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরেই ব্যপক রাজনৈতিক তাপমাত্রা বেড়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বহু বছর ধরে বিজেপি ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক প্রচার চালিয়েছে। কিন্তু সত্যিই কোথায় কী ভুয়ো আছে তা SIR প্রক্রিয়া দেখাবে।
অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করল বহু কেন্দ্রে ভুয়ো ভোটার দিয়ে নির্বাচন জিতানোর চেষ্টা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের দাবি, এবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভেরিফিকেশন, বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষা এবং আধার-ভোটার লিঙ্কিংয়ের ফলে ভুল নাম সনাক্ত করা সহজ হয়েছে। এক কর্তা জানাচ্ছেন “১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকাই দেখাবে, কে অভিযোগ করছে আর কার অভিযোগ বাস্তব।”
বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে এই শুদ্ধিকরণ পর্ব রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। কারণ ভোট কমে গেলে বা বাড়লে নেতাদের শক্তি-রাজনীতি, কৌশল—সবই নতুনভাবে সাজাতে হবে। ১৬ ডিসেম্বর কোন কোন আসনে কত ভোটার উঠল বা বাদ পড়ল—তা দেখার অপেক্ষায় শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, সাধারণ ভোটারও।










