বিধানসভায় পালাবদল ঘটাতে পদ্ম প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে কে?

রাজ্যে চলছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (West Bengal) পর্ব। তার মধ্যেই চোখ রাখা হয়েছে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দিকে। তবে তার আগেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ…

west-bengal-rajya-sabha-election-ahead-of-assembly-polls

রাজ্যে চলছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (West Bengal) পর্ব। তার মধ্যেই চোখ রাখা হয়েছে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দিকে। তবে তার আগেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজ্যসভার নির্বাচন (Rajyasabha Election)। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা ভোটের আগেই রাজ্যের পাঁচ রাজ্যসভার আসনের নির্বাচন করানো হতে চলেছে। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে।

Advertisements

আগামী ২ এপ্রিল রাজ্যসভার পাঁচ আসনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই আসনগুলির মধ্যে তিনটিতে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুব্রত বক্সি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাকেত গোখলে। তৃণমূলের আর এক সাংসদ মৌসম বেনজির নূর সম্প্রতি দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি, সিপিআইএম সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মেয়াদও শেষ হতে চলেছে।

   

অনুপ্রবেশের লাগাম নেই, কাজের খোঁজে সীমান্ত পেরোচ্ছে বাংলাদেশিরা

নির্বাচন আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে রাজ্যসভার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই আগামী মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই ভোটপ্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার জন্য ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি করার কথা নির্বাচন কমিশনের। সূত্রের খবর, লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের ক্যালেন্ডার, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক সমীকরণ। সব দিক মাথায় রেখেই রাজ্যসভার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা হতে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে, এসআইআর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে রাজ্যসভার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু করতে হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক স্তরে কাজের চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

বিধানসভার অঙ্ক বলছে, এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে চারটি আসন থাকার কথা। সিপিআইএম জয়ের সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে। সেই আসনটি বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। আর এই হিসেবকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছে প্রার্থী বাছাইয়ের তোড়জোড়।

ইতিমধ্যেই রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য চারজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রাথমিকভাবে ঠিক করেছে রাজ্য বিজেপি। শনিবার দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সতীশ ধন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী ও অমিতাভ চক্রবর্তী। বৈঠক শেষে চারজনের নামের একটি তালিকা দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদন মিললেই তাঁরা রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হবেন।

সূত্রের খবর, ওই তালিকায় রয়েছে কীর্তন, বাউল ও ভক্তিমূলক সংগীত সংগঠনের পরিচিত মুখ সিদ্ধার্থশংকর নস্করের নাম। এছাড়াও রাজ্য বিজেপির আরও কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে আলোচনায়। বিজেপি সূত্রের দাবি, বিধানসভায় দলের সংখ্যাবলের ভিত্তিতে রাজ্যসভার একটি আসনে জয় কার্যত নিশ্চিত। উল্লেখ্য, একটি রাজ্যসভা আসনে জিততে প্রয়োজন ৫৯টি ভোট। গতবার সেই সমর্থনেই রাজ্যসভায় পৌঁছেছিলেন কোচবিহারের অনন্ত মহারাজ এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। শুধু বাংলা নয়, মহারাষ্ট্র, ওডিশা, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, অসম, বিহার, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশেও একাধিক রাজ্যসভার আসন ফাঁকা হতে চলেছে। সেখানেও নির্বাচন হবে। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রাজ্যগুলিতে আলাদা আলাদা দিনে ভোট করানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, য সাধারণত দেখা যায় না।

সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যসভা ভোট বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারা সংসদের উচ্চকক্ষে যাবেন, তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই এই নির্বাচন হয়ে উঠছে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়েরও ইঙ্গিতবাহী।

Advertisements