HomeWest BengalKolkata Cityনিরাপত্তার কারণে সরান হল নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

নিরাপত্তার কারণে সরান হল নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

- Advertisement -

কলকাতা, ২৯ নভেম্বর ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিসের নিরাপত্তা নিয়ে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা আজও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) সংগঠনের ধর্না ও বিক্ষোভের পর নির্বাচন কমিশন কলকাতা পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে দফতরের নিরাপত্তা জোরদার করতে।

কিন্তু এর ফলে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা হলো সিইও অফিসের অবস্থান সরানোর প্রস্তাব। নিরাপত্তার কারণে এই অফিসকে আরও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ধরেছে। তবে কোথায় এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের অফিস সরানো হবে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

   

তবে কিছু সূত্রের খবর অনুযায়ী মনে করা হচ্ছে সম্ভবত নিজাম প্যালেসে সরতে পারে নির্বাচন কমিশনের অফিস। কারণ সিবিআই থেকে ইডি দফতর এই নিজাম প্যালেসেই রয়েছে এবং এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিশ্ছিদ্র সুরক্ষা পাওয়া যাবে। এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত সোমবার। কলকাতার সিইও অফিসের সামনে বিএলও সংগঠনের কর্মীরা ধর্না শুরু করেন।

তাদের দাবি ছিল বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে। কিন্তু এই ধর্না এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল মধ্যরাত পর্যন্ত নিজের দফতরেই আটকে পড়েন। বাইরে উত্তেজিত জনতা, পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনকে গভীরভাবে চিন্তিত করে তোলে।

কমিশনের দৃষ্টিতে এটা ছিল সরাসরি নিরাপত্তা লঙ্ঘন—একটি সরকারি দফতর যেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেখানে এমন ঘটনা অগ্রহণীয়।স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, ধর্নাকারীরা অফিসের গেট আটকে দিয়েছিলেন, যার ফলে কর্মীরা বেরোতে পারেননি। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও, এই ঘটনা কমিশনের মনে একটা ভয়ের ছায়া ফেলে। 

বুধবার সকালেই নির্বাচন কমিশন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাকে একটা স্পষ্ট চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়েছে, সিইও দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাসম্ভব পদক্ষেপ নিন। শুধু দফতর নয়, তাদের বাসস্থানেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করুন। ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করুন।

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিন।কমিশনের এই পদক্ষেপ দেখে মনে হয়, তারা আর কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। সিইও অফিস যেখানে ভোটার তালিকা প্রস্তুতি, নির্বাচনী কর্মীদের নিয়োগ—সবকিছু হয়, সেখানে নিরাপত্তা ছাড়া কোনো কাজই সম্ভব নয়। চিঠির ভাষা কঠোর, কিন্তু প্রয়োজনীয়। পুলিশ কমিশনারের অফিস থেকে এখনও কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য আসেনি, কিন্তু সূত্র বলছে, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular