SIR প্রভাবিত করতে তৃণমূলের নয়া ছক ফাঁস বিজেপির

Five-Day Deadline Announced for SIR Records Verification
Five-Day Deadline Announced for SIR Records Verification

কলকাতা: বিশেষ ভোটার তালিকা সংস্কার (West Bengal SC ST OBC Certificate) পর্বকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরদার তরঙ্গ উঠেছে। এরই মাঝে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে মুর্শিদাবাদের কান্দি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের একটি সরকারি নির্দেশ। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার নাকি হুড়োহুড়ি করে রাজ্যজুড়ে এসসি, এসটি এবং ওবিসি সার্টিফিকেটের জন্য ‘বিশেষ ক্যাম্প’ আয়োজন করছে এবং সেই সুযোগ নিচ্ছে অযোগ্য বা নথিহীন বহু আবেদনকারী।

ওই নির্দেশ অনুযায়ী (মেমো নং ২৯৭২(৬), ৪ ডিসেম্বর ২০২৫), কান্দি ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ৮ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ ক্যাম্প। উদ্দেশ্য এসসি/এসটি/ওবিসি সম্প্রদায়ের আবেদনের ডেটা এন্ট্রি ও দ্রুত নিষ্পত্তি। প্রশাসন বলছে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ফাইল এবং ডিজিটালাইজেশনের কাজ দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক শিবির ও কিছু জনমত বিশ্লেষকের দাবি—ভোটার তালিকা সংশোধন শুরু হওয়ার পর রাজ্যের এই তৎপরতা সন্দেহজনক।

   

নাগরিকত্ব প্রমান করতে আদালতের নোটিশ সোনিয়াকে

অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, বিশেষ ক্যাম্পের এই হঠাৎ সক্রিয়তা আসলে SIR প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা। কারণ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০২ সালের ভিত্তি ভোটার তালিকার সঙ্গে নাম মিলিয়ে ভোটারদের পরিচয় যাচাই এখন বাধ্যতামূলক। বহু আবেদনকারী সেই তালিকার সঙ্গে নিজেদের মিলাতে না পারায় ‘বাছাই থেকে বাদ পড়তে পারেন’ এমন আশঙ্কা থেকেই নাকি রাজ্য সরকার নতুন করে সার্টিফিকেট বিলির চেষ্টা করছে।

বিরোধী শিবিরের কথায়, ‘‘এটি মূলত অযোগ্য মানুষের হাতে নতুন সার্টিফিকেট তুলে দেওয়ার উপায়। এরপর ওই সার্টিফিকেটকে ১৩ ধরনের নথির তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে শুনানিতে ব্যবহার করলে সহজেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন আবেদনকারীরা।’’ তারা আরও দাবি করেছে, “এভাবে চলতে থাকলে প্রকৃত তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ তাঁদের ন্যায্য অধিকার হারাবেন।”

অন্যদিকে সরকারি মহল বলছে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। রাজ্যের একাধিক জেলায় বহুদিন ধরেই কাস্ট সার্টিফিকেট প্রদান ও সংশোধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল পোর্টালে ঝুলে ছিল। নতুন সিস্টেম চালু হওয়ার কারণে বহু মানুষ নথি আপলোড করতে পারছেন না। ফলে গ্রামে গ্রামে শিবির করে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে মাত্র। রাজ্যের এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কাজ। এটি ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়।”

কিন্তু বিতর্ক থামছে না। সমালোচকরা দাবি করছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার অতীতে ধর্মভিত্তিক বা অযোগ্য ব্যক্তিদের ওবিসি সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য আদালত থেকে একাধিক তিরস্কার পেয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনকে তারা অনুরোধ করেছেন—২০২৫ সালের ২৪ জুন, অর্থাৎ SIR শুরুর তারিখের পর যে কোনও এসসি/এসটি/ওবিসি সার্টিফিকেটকে বিশেষ নজরে পরীক্ষা করতে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর সম্প্রদায় কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃত তালিকায় রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক মহলের মধ্যে স্পষ্ট এক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন বলছে—এটি সাধারণ পরিষেবা প্রদান; বিরোধীরা বলছে—এটি ভোটার তালিকা প্রভাবিত করার কৌশল। এখন সবার চোখ ECI–র দিকে—তারা কি সত্যিই নতুন সার্টিফিকেটগুলিকে বিশেষ যাচাইয়ের আওতায় আনবে? SIR প্রক্রিয়া শেষ হলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা পরিবর্তন আসতে পারে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন