HomeBharatমুসলিম তোষণকারী তৃণমূলের 'বন্দে মাতরম' প্রীতিতে বিস্ফোরক বিজেপি

মুসলিম তোষণকারী তৃণমূলের ‘বন্দে মাতরম’ প্রীতিতে বিস্ফোরক বিজেপি

- Advertisement -

কলকাতা: রাজ্য এবং দেশের রাজনীতিতে ফের বাড়ল চাপানউতোর। রাজ্যসভা সচিবালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশিত পার্লামেন্টারি বুলেটিনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এই প্রতিক্রিয়াকেই বিজেপির একাধিক নেতা “রাজনৈতিক নাটক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ যারা দশক ধরে মুসলিম তোষণ করে এসেছেন, বন্দে মাতরম্ উচ্চারণ করা থেকেও দূরে থেকেছেন, তাঁরাই আজ হঠাৎ দেশপ্রেমিক সাজার চেষ্টা করছেন।

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে ২৪ নভেম্বর প্রকাশিত রাজ্যসভার বুলেটিন, যেখানে পূর্বের মতোই উল্লেখ করা হয়েছে যে সংসদ চলাকালীন কোনো ধরনের স্লোগান তা ধন্যবাদ, জয় হিন্দ, বন্দে মাতরম, কিংবা অন্য যাই হোক উচ্চারণ করা যাবে না। এটি কোনো নতুন নির্দেশ নয়, বরং সংসদের বহু দশকের পুরনো শিষ্টাচারের পুনরাবৃত্তি। এর বিরুদ্ধেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

   

‘ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীর স্থান নেই’, তৃণমূলকে বুঝিয়ে দিল কমিশন

বঙ্গ বিজেপির মতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে যেন সরকার হঠাৎ করে জাতীয় গান বা দেশাত্মবোধক স্লোগানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অথচ বাস্তবে বুলেটিনটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক, যা প্রতি অধিবেশনেই সংসদ সচিবালয় রুটিন প্রক্রিয়ায় জারি করে থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক ময়দানেই এই রুটিন পদ্ধতিই এখন রূপ নিয়েছে নতুন অভিযোগ-প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী, সংসদে স্লোগান তোলা বা ধন্যবাদ জানানো নিষিদ্ধ করার সূত্রপাত ১৯৪৮ সালে। গণপরিষদের স্পিকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন থ্যাংক য়ু , জয়হিন্দ, বন্দেমাতরম এই ধরণের শব্দ উচ্চারণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সংসদকে জনসভায় পরিণত করা যাবে না। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে লোকসভায় ‘বলো ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান উঠতেই স্পিকার একইভাবে সতর্ক করেন। সেই নিয়মই পরে কৌল এবং সাদকারের হাত ধরে সংসদীয় নিয়মপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়।

এই পটভূমিতেই বিজেপি প্রশ্ন তুলছে যেখানে নিয়মটি স্বাধীনতার পর থেকেই বহাল আছে, সেখানে আজ হঠাৎ করে এই নিয়মকেই দেশপ্রেমবিরোধী বলে তুলে ধরা আদৌ কতটা যুক্তিযুক্ত? বিজেপির বক্তব্য, কংগ্রেসের ইতিহাসই দেখায় যে দলটি বারবার বন্দে মাতরম্-এর পূর্ণ সংস্করণ এড়িয়ে চলেছে। ১৯৩৫ সালে জওহরলাল নেহেরুর জাতীয় গানের পঙতি বাদ দেওয়ার অভিযোগও নতুন করে সামনে তুলছে বিজেপি।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন তুলছে বিজেপি শিবির “যিনি রাজনৈতিক জীবনে কখনও বন্দে মাতরম বা ভারত মাতা কি জয় উচ্চারণ করেন না। যিনি সবসময় মুসলিম তোষণ করে এসেছেন। তিনি কি সত্যিই আজ জাতীয় অনুভূতির জন্য উদ্বিগ্ন, নাকি ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির চাপে এ অভিনয়?”

অন্যদিকে কংগ্রেস ও তৃণমূলের পাল্টা দাবি, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় স্লোগানকে ‘বিতর্ক’ বানানোর চেষ্টা করছে এবং জনগণের মনোযোগ অন্য বিষয় থেকে সরাতে চাইছে। তাদের অভিযোগ সংসদের ওপর অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। যদিও বাস্তবে নিয়মটি কোনো সরকারের তৈরি নয়; বরং সম্পূর্ণই স্পিকার ও চেয়ারম্যানদের ঐতিহাসিক নির্দেশনার ধারাবাহিকতা।

সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হতেই এই ইস্যুটি সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। কংগ্রেস ও তৃণমূল বুলেটিনকে রাজনৈতিক আক্রমণের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে, আর বিজেপি বলছে “দশক ধরে যারা বন্দে মাতরমকে অগ্রাহ্য করেছে, তারা আজ হঠাৎ জাতীয় গানের প্রেমে পড়েছে কেন?” কোন পক্ষের যুক্তি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত সংসদের পুরোনো শিষ্টাচার নিয়ে শুরু হওয়া এই নতুন ঝড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুতই আরও বাড়তে পারে।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular