উত্তরাখন্ড: দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন (Uttarakhand)এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বাধীন ডবল ইঞ্জিন সরকার স্পষ্ট ঘোষণা করেছে দেবভূমির জনসংখ্যা ও সনাতন পরিচয় সবার আগে।
কোনও মাদ্রাসায় বিচ্ছিন্নতাবাদী বা বিভাজনকারী পাঠ্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সব মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজ্যের সিলেবাস বা জাতীয় পাঠ্যক্রম ফ্রেমওয়ার্ক (এনসিএফ) এবং নতুন শিক্ষানীতি (এনইপি ২০২০) অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে।
ভারত সফরে মার্কিন সেনা সচিব ড্যান ড্রিসকল, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ইঙ্গিত
এই পদক্ষেপকে ধামি ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, সমান ও একীভূত করবে।উত্তরাখণ্ড মাইনরিটি এডুকেশন বিল ২০২৫-এর অধীনে রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুরমিত সিং (অবসরপ্রাপ্ত) অনুমোদন দিয়েছেন। এই বিলের ফলে উত্তরাখণ্ড মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত হচ্ছে। আগের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অ্যাক্ট ২০১৬ এবং নন-গভর্নমেন্ট আরবিক অ্যান্ড পার্সিয়ান মাদ্রাসা রেকগনিশন রুলস ২০১৯ বাতিল হয়ে যাবে।
এখন থেকে সব মাদ্রাসাকে উত্তরাখণ্ড মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটির কাছ থেকে স্বীকৃতি নিতে হবে এবং উত্তরাখণ্ড বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশনের সঙ্গে অধিভুক্ত হতে হবে। এতে শুধু মুসলিম নয়, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানও একই নিয়মের আওতায় আসছে।ধামি বলেছেন, দেবভূমির সনাতন পরিচয় রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কেন্দ্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। তাই অবৈধ মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কড়া অভিযান চলছে। সরকারি হিসেবে ইতিমধ্যে ২৫০-এর বেশি অবৈধ মাদ্রাসা সিল করে দেওয়া হয়েছে। এগুলোতে নিয়ম মেনে নিবন্ধন ছিল না, ভবন নির্মাণের অনুমতি ছিল না, বা শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। ধামির মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে কখনও কখনও উগ্রবাদী শিক্ষা দেওয়া হতো, যা রাজ্যের শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি।
এছাড়া সরকার ১০,০০০ একরের বেশি সরকারি জমি দখলমুক্ত করেছে, যা অবৈধ দখলদারদের থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও কম নেই। সরকার বলছে, এটা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সব শিশুকে বিজ্ঞান, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞানের মতো মূল বিষয় শেখানো হবে, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি।
কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় শিক্ষার স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। কেউ কেউ এটাকে ‘ইসলামোফোবিয়া’র অংশ বলে মনে করছেন। ধামি অবশ্য সাফ বলেছেন, কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, শুধু অবৈধ ও বিপজ্জনক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে। রাজ্যে ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ ইত্যাদির বিরুদ্ধেও কড়া আইন করা হয়েছে।
