উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী সঞ্জয় নিশাদ তার বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক মহলে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের (Nitish Kumar) একটি ঘটনা সমর্থন করার সময় এমন বক্তব্য দিয়েছেন যা অনেকের কাছে মহিলাদের প্রতি অসম্মানজনক এবং লাঞ্ছনাকর মনে হয়েছে। ঘটনা ঘটেছিল সোমবার, যখন নীতিশ কুমার, যিনি সম্প্রতি দশবারের রেকর্ড অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন, নতুন নিযুক্ত এয়ুশ (AYUSH) ডাক্তারদের নিয়োগপত্র বিতরণ করছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি, যিনি নীতিশ কুমারের পাশে দাঁড়িয়ে কৌশলে তার হাতের স্লিভ টেনে তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় নীতিশ কুমার একটি মুসলিম নারীর হিজাব সরিয়ে দেন, যা পরে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
এই ঘটনার পর, উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী সঞ্জয় নিশাদ জানান, “এই ঘটনায় অতিরিক্ত হট্টগোল করা উচিত নয়। শেষ পর্যন্ত, তিনি তো একজন মানুষ। হিজাব স্পর্শ করা মাত্র এত হুলস্থুল কেন? যদি অন্য কোথাও স্পর্শ করতেন, কী হতো?” তাঁর এই মন্তব্যে যে হাস্যরস ও অবজ্ঞা ছিল, তা অনেকের জন্য অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।
এরপর সঞ্জয় নিশাদ মন্তব্যটি ভুলভাবে বোঝানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট থেকে বের করে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রাখে না। তবে তার মন্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
হিজাব বিতর্ক ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাজনীতি ও সামাজিক সংবেদনশীলতার দিক থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নীতিশ কুমারের পদক্ষেপকে সমর্থন করার সময় সঞ্জয় নিশাদের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত করেছে। বিশেষ করে তার মন্তব্যের যে অংশে তিনি বলেছেন, “কোথাও অন্য কোথাও স্পর্শ করতেন, কী হতো?” তা সমালোচকদের মতে, এটি মহিলাদের প্রতি অসম্মান ও নারীবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করছে।
