নয়াদিল্লি, ৫ ডিসেম্বর: সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রত্যেকদিন নতুন টুইস্ট (TMC protest pending dues Saugata Roy)। আজ ফের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দল প্ল্যাকার্ড হাতে, স্লোগানে মুখরিত করে পার্লামেন্ট চত্বরে বিক্ষোভ দেখাল।
মূল দাবি একটাই কেন্দ্রীয় সরকার অবিলম্বে বাংলার বকেয়া এমজিএনআরইজিএ, আবাস যোজনা, পিএম-কিসান, জলজীবন মিশন সহ বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়ুক। বিক্ষোভ শেষে তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, “আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই বাংলার প্রাপ্য টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সংসদের ভিতরে-বাইরে আমাদের আন্দোলন চলবে।
এটা রাজনীতির প্রশ্ন নয়, এটা বাংলার গরিব মানুষের পেটের প্রশ্ন।”সকাল ১১টা নাগাদ লোকসভা ও রাজ্যসভার গেটের সামনে তৃণমূলের সাংসদরা জমায়েত হন। হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা—‘বাংলার টাকা বাংলাকে ফেরত দাও’, ‘১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখে গরিবকে মারছ কেন?’, ‘মোদি সরকারের বঞ্চনা বন্ধ করো’। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, নাদিমুল হক, প্রতিমা মণ্ডল সহ প্রায় ৩৫ জন সাংসদ-সাংসদ স্লোগান দিতে দিতে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন।
প্রয়াত টাটা গোষ্ঠীর প্রবীণ কর্ণধার ও ‘কসমেটিক্স সম্রাজ্ঞী’ সিমোনে টাটা
পুলিশ ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়েও তাঁরা থামেননি। সৌগত রায় চিৎকার করে বলেন, “একশো দিনের কাজে বাংলা দেশে প্রথম। কিন্তু টাকা আটকে রেখে কেন্দ্র গরিব শ্রমিকদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছে। এটা কি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়?” তৃণমূলের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে কেন্দ্র বাংলাকে এমজিএনআরইজিএ-র প্রায় ৭,৫০০ কোটি, আবাস যোজনায় ৬,৯০০ কোটি, পিএম-কিসানে ৪,৫০০ কোটি সহ মোট প্রায় ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে।
এর ফলে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের বকেয়া মজুরি আটকে আছে, গ্রামীণ রাস্তা-পুকুর খোঁড়া বন্ধ, আবাসের ঘর হচ্ছে না। সৌগতবাবু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের টাকায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, শিক্ষাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী চালাচ্ছেন। কিন্তু কেন্দ্রের প্রাপ্য টাকা না দিয়ে বাংলাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এটা ফেডারেল কাঠামোর উপর আঘাত।”সংসদের ভিতরেও তৃণমূল আজ তীব্র হইচই করেছে। লোকসভায় স্পিকারের চেয়ারের সামনে গিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনারা বাংলার গরিবকে অনাহারে মারতে চান?”
রাজ্যসভায় ডেরেক ও’ব্রায়েন প্রশ্ন তুলেছেন, “কেন শুধু বাংলা, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ডকে টাকা দেওয়া হচ্ছে না? কারণ এখানে বিজেপি নেই?” ক্ষমতায়?” কেন্দ্রের পাল্টা যুক্তি বাংলা সরকার দুর্নীতি করেছে, তাই টাকা আটকানো হয়েছে।
কিন্তু তৃণমূল বলছে, কেন্দ্রের তদন্তে কোনো বড় দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি, তবু টাকা আটকে রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তৃণমূল কলকাতায় বড় মিছিলের পরিকল্পনা করছে। সৌগত রায় শেষে বলেন, “এটা আর শুধু তৃণমূলের লড়াই নয়। এটা বাংলার অধিকারের লড়াই। আমরা থামব না।”
