বিজেপি কর্মীদের ঝাঁটা কাটারি নিয়ে তাড়ানোর নিদান চন্দ্রকোনা বিধানসভার বিধায়কের

tmc-mla-arup-dhara-remarks

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা বিধানসভা (TMC MLA)এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক অরূপ ধাড়ার এক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা ভোট চাইতে এলে তাঁদের ঝাঁটা, লাঠি ও কাটারি নিয়ে তাড়ানোর নিদান দিয়েছেন তিনি। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা, পাল্টা আক্রমণে নেমেছে বিজেপিও।

ঘটনাটি ঘটেছে চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের বসনছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বৈকণ্ঠপুর গ্রামে। সেখানে ‘গ্রাম উন্নয়নের সংলাপ’ নামক একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে মাইক হাতে বক্তব্য রাখছিলেন চন্দ্রকোনার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ ধাড়া। উপস্থিত গ্রামবাসী, বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি কর্মীরা যখন ভোট চাইতে আসবে, তখন প্রথমে তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে হবে দিল্লির বিজেপি সরকার কী উন্নয়ন করেছে।

   

‘বামেরা বাংলায় খারাপ, কেরলে ভাল’: তসলিমা

বিধায়কের দাবি অনুযায়ী, বিজেপি কর্মীরা যদি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে তাঁদের “ঝাঁটা, লাঠি আর কাটারি দিয়ে বিদায়” করতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও ও অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শোরগোল শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।

বিজেপির অভিযোগ, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে এ ধরনের বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি শুধু রাজনৈতিক উসকানি নয়, বরং সাধারণ মানুষকে হিংসার পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা। তাঁদের মতে, ভোট চাইতে যাওয়া কোনও রাজনৈতিক কর্মীর উপর শারীরিক আক্রমণের আহ্বান আইনবিরোধী এবং নিন্দনীয়।

এই ইস্যুতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন হুগলির পুড়শুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ, যিনি বর্তমানে চন্দ্রকোনা বিধানসভার বিজেপি ইনচার্জও। তিনি তৃণমূল বিধায়ক অরূপ ধাড়াকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “উন্নয়নের কথা বলার ক্ষমতা নেই বলেই ভয় দেখিয়ে ভোট রাজনীতি করতে চাইছেন তৃণমূল নেতারা।

এটাই তৃণমূলের আসল চরিত্র।” বিমান ঘোষ আরও দাবি করেন, বিজেপি কর্মীরা গণতান্ত্রিক উপায়ে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইবে এবং কোনও হুমকি বা ভয় দেখিয়ে তাঁদের থামানো যাবে না। তাঁর কথায়, “এই ধরনের মন্তব্য প্রমাণ করে, তৃণমূল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। তাদের দাবি, বিধায়কের কথার অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের মতে, বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এমন কথা বলা হয়েছে, এর সঙ্গে সরাসরি হিংসার আহ্বানের কোনও সম্পর্ক নেই।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মুখে এ ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে পারে। বিশেষ করে গ্রামস্তরে রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীতেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে, ফলে এই ধরনের বক্তব্য প্রশাসনের নজর এড়াবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, চন্দ্রকোনায় তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্য নতুন করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটের আগে শাসক ও বিরোধী দলের এই বাকযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন