বঙ্গে SIR এ আরও আরও কঠোর সিদ্ধান্তে শীর্ষ আদালত

নয়াদিল্লি, ১০ ডিসেম্বর: সুপ্রিম কোর্টে আজ একটি গুরুতর আলোচনা হলো, (Supreme Court warning on SIR)যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবাণী জারি করেছে।…

supreme-court-warning-sir-bengal-election-commission

নয়াদিল্লি, ১০ ডিসেম্বর: সুপ্রিম কোর্টে আজ একটি গুরুতর আলোচনা হলো, (Supreme Court warning on SIR)যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কবাণী জারি করেছে। প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ‘অব্যবস্থা কোনোভাবেই সহ্য করা যাবে না’ বলে কড়া সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ECI)-কে নির্দেশ দিয়েছেন, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) কাজে নিয়োজিত বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO)-এর উপর হামলা বা হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।

Advertisements

এই সতর্কতা পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে উঠেছে, যেখানে নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের কাজে বিএলওরা ক্রমাগত হুমকির শিকার হচ্ছেন।আজকের শুনানিতে সিজেআই সুর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের সামনে উপস্থাপিত হয়েছিল ‘সনাতনী সংসদ’-নামক সংগঠনের একটি যুক্তির পক্ষে দায়ের আবেদন। এই সংগঠন পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর কাজের সময় বিএলওদের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছিল।

   

কুলপিতে মৌলবাদী হামলায় মাথা কাটা গেল বজরংবলীর

আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট ভি.ভি. গিরি জানান, রাজ্যে নির্বাচনী হিংসার ইতিহাস রয়েছে—২০২২-২৩ সালের ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএলওরা এখনও হামলা, হুমকি এবং বাধাদানের শিকার হচ্ছেন। ‘একটি একক এফআইআর-এর ভিত্তিতে কি পুরো পুলিশকে ইসিআই-এর অধীনে রাখা যায়?

এটা সব রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হবে,’ বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন তুললেন, কিন্তু সিজেআই কান্ত জোর দিয়ে বললেন, ‘যদি বিএলওরা হুমকির মুখে পড়েন, তা গুরুতর বিষয়। এসব ঘটনা বাড়লে অব্যবস্থা ছড়িয়ে পড়বে। ইসিআইকে কঠোরভাবে কাজ করতে হবে।’

ইসিআই-এর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাকেশ দ্বিবেদী জানান, কমিশনের কাছে সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে এসব হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু তারা স্পষ্ট করে বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে স্থানীয় পুলিশকে ডেপুটেশনে নেওয়া ছাড়া এসব নিরাপত্তা বিষয় ম্যানেজ করা সম্ভব নয়।’ দ্বিবেদী আরও জানান, রাজ্যের চিফ ইলেকটোরাল অফিসার এবং জেলা ইলেকটোরাল অফিসারের অফিস আটকানো হয়েছে, যা কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সিজেআই কান্ত বললেন, ‘আপনাদের কাছে ক্ষমতা আছে, তাই ব্যবহার করুন। না হলে অব্যবস্থা হয়ে যাবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে এসআইআর কাজ মাটিতে বাধাহীনভাবে চলে।’ বেঞ্চ কেন্দ্র, ইসিআই এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নোটিশ জারি করে জাতীয় পর্যায়ে সহযোগিতার অভাবের বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। ‘শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতাও জানান,’ তিনি বলেন।

এই শুনানির পটভূমি অত্যন্ত গুরুতর। এসআইআর ২.০ যা নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের একটি বিশেষ অভিযান চলছে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে। বিএলওরা, যাঁরা মূলত স্কুল শিক্ষক বা সরকারি কর্মী, তাঁদের উপর পড়েছে বিপুল চাপ। প্রতি বুথে ৩০-৩৫ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করতে হয়, যা মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়াচ্ছে।

সাম্প্রতিককালে কয়েকজন বিএলও-এর মৃত্যুর খবর এসেছে, যা অতিরিক্ত চাপের কারণে আত্মহত্যা বলে অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ করে, রাজনৈতিক উত্তেজনা নির্বাচনী তালিকায় কালো চক্রান্তের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, বিজেপি-টিএমসি দ্বন্দ্বের ফলে বিএলওরা লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছেন।

Advertisements