
কলকাতা: জুয়েল রানা ইস্যুকে ঘিরে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মন্তব্যে (Sukanta Majumdar)এবার পাল্টা বিস্ফোরক জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। পশ্চিম মেদিনীপুরে এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অধীর চৌধুরীর উদ্দেশে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি। সুকান্তের বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
রবিবার শান্তিনগর এলাকা পরিদর্শনে যান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই পরিদর্শন অধীরের। এই ইস্যুতেই সুকান্ত মজুমদার সরাসরি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নির্বাচনী পরাজয়কে সামনে এনে বলেন, “অধীর রঞ্জন চৌধুরী নির্বাচন হেরেছেন।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদ, সরব বামেরা
মুসলিমরা তাঁকে ভোট দেননি। এখন মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ধরার জন্য তিনি লাফালাফি করছেন।” তাঁর দাবি, অধীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভোট রাজনীতির অঙ্গ।
ভাষাগত বা ধর্মীয় নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সুকান্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “ভাষার ভিত্তিতে কোথাও কোনও অত্যাচার হচ্ছে না।” বরং তাঁর অভিযোগের তির সরাসরি রাজ্যের শাসকদলের দিকে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার আগে সিপিএম বাংলাকে এমন অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে, যেখানে সীমান্তে বেড়া দিতে দেওয়া হয়নি।” এই অব্যবস্থার ফলেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুকান্তের আরও বক্তব্য, সীমান্তে কড়া নজরদারি না থাকার সুযোগে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং এর ফলে জনসংখ্যার গঠন বদলে যাচ্ছে এমন আশঙ্কা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “অনেকে ধরা পড়েছে, অনেকেই আবার বাংলাদেশে ফিরে গেছে। এই কারণেই এত আলোচনা হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতির দায় রাজ্যের বর্তমান ও পূর্ববর্তী শাসকদেরই নিতে হবে।
অধীর চৌধুরীর উদ্দেশে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, “অধীর রঞ্জন চৌধুরীর উচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা।” তাঁর মতে, রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার মূল কেন্দ্রেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই থেমে থাকেননি বিজেপি নেতা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও বড় রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “২০২৬-এর পর আর তৃণমূল কংগ্রেস নামে কোনও দল থাকবে না। সবাই দল ছেড়ে পালিয়ে যাবে। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাঁর ভাইপোই পড়ে থাকবেন।”
এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। বিজেপির দাবি, রাজ্যে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যা পরিবর্তনের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে নীরবতা পালন করছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও তৃণমূলের তরফে এখনও এই বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এলেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ২০২৬-এর আগে এই ধরনের তীব্র বাক্যবাণ আরও বাড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুয়েল রানা ইস্যুতে অধীরের মন্তব্য এবং তার জবাবে সুকান্তের এই আক্রমণ আসলে আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটব্যাঙ্কের মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করছে। ধর্ম, অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে দেওয়া সুকান্ত মজুমদারের এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।










