সভামঞ্চে র‌্যাম্প ঘিরে প্রশ্নের ঝড়, মঞ্চ থেকেই উত্তর দিলেন অভিষেক

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে এক নতুন ধরনের ঘটনা ঘটল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের  সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) নির্বাচনী সভায় এক বিশেষ ধরনের র‍্যাম্প ব্যবহার…

Stage Ramp Sparks Debate, Abhishek Offers Explanation from the Dais

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে এক নতুন ধরনের ঘটনা ঘটল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের  সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) নির্বাচনী সভায় এক বিশেষ ধরনের র‍্যাম্প ব্যবহার করেন। ভোটার তালিকায় মৃত বলে উল্লেখ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে ওই র‍্যাম্প তৈরি করা হয়েছিল। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতির এক নতুন মোড় নিয়েছে এবং রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি রাজ্যের মানুষের সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছেন।

Advertisements

এই ঘটনাটি ঘটে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এ খসড়া তালিকা প্রকাশের পর। ওই তালিকায় দেখা যায়, কয়েকজন ভোটারকে মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ তারা জীবিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই তালিকায় মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে এমন তিনজন ব্যক্তির মধ্যে দু’জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজে এবং অন্যজনের বাড়ি কাকদ্বীপে। তাঁরা সকলেই জীবিত, কিন্তু ভুলভাবে তাদের নাম মৃতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনা সম্পর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটা অত্যন্ত ভয়াবহ। যারা জীবিত, তাদের নাম যদি মৃতদের তালিকায় চলে যায়, তা কীভাবে হতে পারে? এই ভুলের ফলে মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার হারিয়ে ফেলতে পারে।’’

   

এই বিষয়টির প্রতি জনগণের নজর আকর্ষণ করার জন্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় র‍্যাম্প তৈরি করেন। সভামঞ্চে ওই তিনজনকে জীবিত অবস্থায় র‍্যাম্পে হাঁটতে দেখা যায়। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, মানুষের কাছে একটি বার্তা পৌঁছানো যে, যেভাবে নির্বাচন কমিশন তাঁদের মৃত বলে দেখিয়েছে, ঠিক তেমনই অন্য অনেক ভোটারের সাথে এমন অবিচার হতে পারে। এই র‍্যাম্পের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটারদের কাছে এই বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘এটাই মানুষের জন্য এক বড় বার্তা— যে কোনো ভুলের ফলে কীভাবে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।’’

অভিষেক আরও বলেন, ‘‘এটি শুধু একটা ভুল নয়, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।’’ তিনি দাবি করেছেন যে, এই ধরনের ভুল শুধুমাত্র প্রশাসনিক অসাবধানতার ফল নয়, বরং অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে করা হতে পারে। যখন কোনো ব্যক্তি ভুলভাবে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়, তখন তাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। ফলে ভোটারদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা রাজ্যের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে দুর্বল করে দেয়। যদি এমন ভুল সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে থাকে, তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিভাবে? এই ধরনের ভুল শুধু সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রক্রিয়াকেও বিপন্ন করতে পারে।’’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘‘এই ভুল তাড়াতাড়ি সংশোধন করতে হবে। যদি কেউ মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে, কিন্তু যদি কেউ জীবিত থাকে, তাহলে তার নাম ভুলভাবে মৃত হিসেবে দেখানো একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্য প্রশাসনকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং একটি সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতে হবে।’’

এটা শুধু একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এর রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনিক অক্ষমতার প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এতে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি বিশ্বাস কমে যেতে পারে, এবং এটি রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেছেন, ‘‘এই ধরনের ভুল শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে নয়, বরং রাজ্যের জনগণের পক্ষে একটা বড় সমস্যা। আমরা চাই, রাজ্যের সব ভোটারের ভোটাধিকার সুরক্ষিত হোক এবং কোনও ভুলের কারণে কেউ ভোট দিতে না পারে।’’ তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা রাজ্যের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে এবং এটি সরকারের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে উৎসাহিত করবে।

 

Advertisements