হুগলির শ্রীরামপুর বিডিও অফিসে আজ সকাল থেকেই উত্তেজনার (Srirampur)পারদ চড়তে শুরু করেছে। হাতে লাঠি, ঝাঁটা, লোহার রড নিয়ে শতাধিক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এসে ভিড় জমিয়েছেন অফিসের সামনে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে চত্বর ‘জয় বাংলা’, ‘SIR মানব না’, ‘ভোটারের অধিকার কাড়া যাবে না’। কারণ? ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৭ জমা দেওয়া নিয়ে বিতর্ক।
বিজেপির অভিযোগ, তারা মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম কাটাতে ফর্ম ৭ জমা দিতে এসেছিলেন, কিন্তু তৃণমূলের চাপে অফিস থেকে সেগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই অভিযোগের জেরেই তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভে নেমেছেন, দাবি করছেন যে এটা গণতন্ত্রের নামে ভোটারদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত।শ্রীরামপুরের এই ঘটনা শুধু একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বঞ্চিত প্রার্থীদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন ব্লকে একই ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও অবরোধ, কোথাও স্লোগান, কোথাও আবার পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি লরি-লরি প্রি-ফিলড ফর্ম ৭ নিয়ে এসে গরিব, সংখ্যালঘু, আদিবাসী ভোটারদের নাম কাটার চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি বলছে, ড্রাফট তালিকায় হাজার হাজার মৃত বা ভুয়ো নাম রয়ে গেছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
ফর্ম ৭ জমা না নিলে তো পরিষ্কার করা যাবে না!এই আবহে আরও একটা উত্তপ্ত ঘটনা ঘটেছে নদিয়ার কল্যাণীতে। বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় ফর্ম ৭ জমা দিতে মহকুমা শাসকের দফতরে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। ‘গো ব্যাক’, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে চারদিক কাঁপিয়ে তোলেন। অম্বিকা রায়ের অভিযোগ, তাঁকে অফিসে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি, হেনস্থা করা হয়েছে।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি অম্বিকা রায় গত কয়েকদিনে হাজার হাজার ভোটারের নাম কাটার চক্রান্ত করেছেন, যাদের ভোটে তিনি বিধায়ক হয়েছেন। যুব তৃণমূল নেতা সায়ন দত্ত বলেন, “এঁর প্ল্যান ৮ হাজার নাম কাটা। এটা গণতন্ত্রের পরিহাস!”রাজ্যজুড়ে এই ফর্ম ৭ নিয়ে চাপানউতোর এতটাই তীব্র হয়েছে যে নির্বাচন কমিশনকে বারবার চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে বয়স্ক, অসুস্থ, অশিক্ষিতদের বারবার ডেকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ বলেছেন, অভিযোগ উপেক্ষা করলে ২০২৬-এর নির্বাচনই হতে দেবেন না।এদিকে শ্রীরামপুরে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করেছে, লাঠিচার্জের আশঙ্কায় এলাকায় উত্তেজনা।
স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে চললে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। অনেকে মনে করছেন, SIR প্রক্রিয়া যতই নিরপেক্ষ হোক না কেন, রাজনৈতিক দলগুলির চাপে সাধারণ ভোটাররাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। কেউ বলছেন মৃত ভোটারের নাম থাকলে ভোট চুরি হয়, কেউ বলছেন নাম কাটলে গণতন্ত্র মরে যায়।
