কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার (punishment for fake information)শুনানি পর্ব শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ৩,২৩৪টি কেন্দ্রে এই শুনানি চলছে, যেখানে প্রথম দফায় প্রায় ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটারকে তলব করা হয়েছে। এরা সেই ভোটাররা, যাদের নাম বা বাবা-মা-দাদা-দিদার নাম ২০০২ সালের ভোটার লিস্টের সঙ্গে মেলানো যায়নি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই শুনানিতে ভুয়ো বা জাল নথি জমা দিলে বা মিথ্যা তথ্য দিলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
যার মধ্যে এক বছরের জেলও হতে পারে।রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল শুক্রবারই সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, ভোটার তালিকায় নাম রাখার জন্য জাল নথি জমা দিলে এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এটা রিপ্রেজেনটেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্টের সেকশন ৩১-এর অধীনে পড়ে, যেখানে মিথ্যা ঘোষণা বা প্রতারণামূলক নথি জমা দেওয়ার জন্য জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
ভারতের নতুন দেশীয় গুপ্তচর প্রস্তুত! ARYA-5001-এর আগমনে আরও শক্তিশালী ভারতীয় বিমানবাহিনী
শুধু তাই নয়, যদি নথি জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তাহলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডও হতে পারে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ যে, শুনানিতে শুধু সত্যি এবং বৈধ নথি জমা দিতে হবে। বিদেশি যারা অবৈধভাবে ভারতীয় নথি নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলবে।শুনানি প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে? প্রত্যেক ভোটারকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রে গিয়ে স্বাক্ষর বা থাম্ব ইম্প্রেশন দিতে হবে, ছবি তুলতে হবে এবং নথি যাচাই করাতে হবে। সবকিছু ERONET সফটওয়্যারে আপলোড করা হবে। প্রতিটি শুনানির তদারকি করছেন মাইক্রো-অবজার্ভাররা, যাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকরাও রয়েছেন। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৪,০০০ মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে কোনও অনিয়ম না হয়।
শুনানি চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আর তারপর ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশিত হবে।এই SIR প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এটা ‘ব্যাকডোর NRC’ যার ফলে লক্ষ লক্ষ যোগ্য ভোটার, বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এটা গণতন্ত্রের উপর আঘাত। অন্যদিকে, বিজেপি দাবি করছে যে SIR ভুয়ো ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটার জন্য দরকারি, আর যোগ্য শরণার্থীদের রক্ষা করবে CAA। CAA-র অধীনে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট এখন শুনানিতে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে, যা মতুয়াদের জন্য বড় স্বস্তি।


