না জানিয়েই নাম ঘোষণা! সাভারকার পুরস্কারে বিরক্ত শশী

shashi-tharoor-rejects-veer-savarkar-award-controversy

নয়াদিল্লি, ১১ ডিসেম্বর: দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করা, (Shashi Tharoor rejects Veer Savarkar Award)রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন সব মিলিয়ে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে ঘিরে গত কয়েক মাস ধরে নানা জল্পনা তুঙ্গে। কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন এমন গুঞ্জনও ক্রমেই জোরাল হচ্ছিল রাজনৈতিক মহলে। আর ঠিক এমন আবহেই ‘বীর সাভারকর ইন্টারন্যাশনাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ প্রত্যাখ্যান করলেন তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ। সঙ্গে আয়োজকদের কঠোর ভাষায় বিঁধলেন তিনি।

থারুর জানান, কেরলে থাকার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ে জানতে পারেন যে তাঁকে নাকি ‘বীর সাভারকর পুরস্কার’ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায় “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। কেউ আমাকে জানায়নি। কারও সঙ্গে কথা হয়নি। আমি গ্রহণ করিনি এমন পুরস্কারের ঘোষণাটাই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।”

   

পলিথিন ফিল্ম প্রকল্পের অনুমোদন DRDO-র, -৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উড়বে দেশীয় রাডার বেলুন

তিনি আরও জানান, বুধবার দিল্লিতে NDMC কনভেনশন হলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, কিন্তু তিনি যাবেন না। থারুর স্পষ্ট বলেন “আমি যেখানে পুরস্কার গ্রহণেই সম্মতি দিইনি, সেখানে আমার নাম ঘোষণা করে কীভাবে এমন অনুষ্ঠান সাজানো হলো, তা আমার কাছে রহস্য।”

High Range Rural Development নামে যে সংস্থা এই পুরস্কার ঘোষণা করেছে, তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে থারুর বলেন “ওই সংস্থা কী করে, কেন পুরস্কার দেয়, তাদের উদ্দেশ্য কী কিছুই জানি না। এই পরিস্থিতিতে পুরস্কার গ্রহণ করা তো দূরের কথা, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও লিখে স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর কোনো সম্মতি ছাড়াই নাম ঘোষণা করা হয়েছে এটি সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।

শশী থারুরকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা সমীকরণ বদলেছে। কখনও তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করতে দেখা গেছে, কখনও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে। সবচেয়ে বড় বিতর্ক হয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরে যেখানে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী পর্যন্ত আমন্ত্রিত না হলেও, থারুর ছিলেন উপস্থিত।

এ নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরে ক্ষোভ বাড়ছিল। বহু নেতা প্রকাশ্যে না হলেও মনে মনে প্রশ্ন তুলছিলেন ‘‘থারুর কি বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন?’’ এর মধ্যেই ‘বীর সাভারকর পুরস্কার’ পাওয়া নিয়ে যে হইচই তৈরি হয়েছিল, তা রাজনৈতিক অন্দরে আবারও নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ সাভারকর ইস্যু বহুদিন ধরেই কংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে। ফলে এই পুরস্কারের ঘোষণাকে অনেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেই দেখছিলেন।

কিন্তু মঙ্গলবার–বুধবারের থারুরের অবস্থান জল্পনাকে নতুন মোড় দিয়েছে। স্পষ্টভাষায় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে তিনি জানিয়ে দিলেন, “এটি পুরোপুরি ভুল সিদ্ধান্ত। আমাকে না-জানিয়ে এমন ঘোষণা অগ্রহণযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, ‘‘এখনই একবারে সব কথা পরিষ্কার করে দিচ্ছি, যাতে বারবার প্রশ্ন করা না হয়।’’ থারুরের এই অবস্থান কংগ্রেসের ভেতরে কিছুটা স্বস্তি ফেরালেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিষয়টি এত সহজ নয়। একটি শিবিরের মতে “থারুরের ভাষা অবশ্যই দৃঢ়, কিন্তু তা রাজনীতির জল্পনা পুরোপুরি শেষ করছে না।”

High Range Rural Development সংস্থাটি ঠিক কীভাবে নাম চূড়ান্ত করল, কেন থারুরের সম্মতি না নিয়েই ঘোষণা করা হলো, আয়োজকদের উদ্দেশ্য কী এসব প্রশ্ন ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। আজকের অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ উপস্থিত থাকবেন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে থারুরের নাম ঘোষণা হয়েছিল বলে অনেকেই নজর দিচ্ছেন।

পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে শশী থারুর স্পষ্ট করলেন তিনি অন্তত এই বিতর্কে জড়াতে চান না। তবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত। পুরস্কার বিতর্ক সাময়িকভাবে থামালেও, তাঁর অবস্থান নিয়ে কংগ্রেস-বিজেপি উভয় শিবিরেই কৌতূহল বজায় থাকবে তা নিশ্চিত।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন