কলকাতা: আগামী ৯ জানুয়ারি ঠাকুর বাড়ি যাওয়ার কথা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের (Shantanu Thakur)। কিন্তু তাকে ঠাকুরবাড়িতে ঢুকতেই দেবেন না এমনটাই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শান্তনু ঠাকুর। শান্তনু বলেন ঠাকুরবাড়ি সবার কিন্তু অভিষেক যখন আসেন তখন ক্ষমতা প্রদর্শন করতে আসেন। তিনি আরও বলেন মমতা বন্দোপাধ্যায় হরিচাঁদ ঠাকুর এবং গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম বিকৃত করেছিলেন তার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। বর্তমানে মতুয়া গড় হয়ে উঠেছে তৃণমূল এবং বিজেপির তুরুপের তাস।
একদিকে SIR এ নাম বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ মতুয়ারা তার ফায়দা তুলে চাইছে তৃণমূল। আবার অন্যদিকে বাংলায় এসে মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাই এখন বিজেপিও ভাবছে মতুয়াদের ভোটব্যাঙ্ক তাদের জন্য খুলে গিয়েছে। মতুয়ারা বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া একটি বড় সম্প্রদায়।
দিল্লিতে নকল ঘি-লবণসহ ভেজাল খাদ্যচক্রের পর্দাফাঁস
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া সহ প্রায় ৫০টি বিধানসভা আসনে তাঁদের প্রভাব রয়েছে। বর্তমানে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনেক মতুয়ার নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল এটাকে বিজেপির ষড়যন্ত্র বলে প্রচার করছে, যাতে মতুয়াদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিজেপি বলছে এটি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া এবং সিএএ-র মাধ্যমে সত্যিকারের শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
সম্প্রতি কলকাতা সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মতুয়াদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, সিএএ-র আওতায় আবেদন করা প্রত্যেকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে। “মতুয়াদের কোনও চিন্তা নেই। প্রত্যেক ধর্মীয় নির্যাতিত শরণার্থীকে নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে।
এটি বিজেপির প্রতিশ্রুতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের ক্ষতি করতে পারবেন না,” বলেছেন শাহ। তিনি মমতা সরকারকে অনুপ্রবেশকে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ করে বলেন, রাজ্যের জনসংখ্যার গঠন বদলে গিয়েছে। বিজেপি মতুয়াদের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
মতুয়া মহাসংঘ দু’ভাগে বিভক্ত একদিকে শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন অংশ বিজেপির সঙ্গে, অন্যদিকে মমতাবালা ঠাকুরের অংশ তৃণমূলের কাছাকাছি। এসআইআর-এ নাম বাদ পড়ায় অনেক মতুয়া আতঙ্কগ্রস্ত। তৃণমূল এটাকে বিজেপির ষড়যন্ত্র বলে প্রচার করে ভোট টানার চেষ্টা করছে, আর বিজেপি সিএএ-র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাইছে। অমিত শাহের সাম্প্রতিক বক্তব্য মতুয়াদের জন্য স্বস্তি দিলেও শান্তনুর চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে।
