জেলে বসেই চলছে শাহজাহানের ষড়যন্ত্র! সরব বিজেপি

shaikh-shahjahan-sandeshkhali-witness-accident-conspiracy-news

শেখ শাহজাহান, সন্দেশখালি কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত (Sandeshkhali Shahjahan)। এই মুহূর্তে জেলে থাকা সত্ত্বেও জেলে বসেই শাহাজাহান ফাঁদছে মৃত্যুর ফাঁদ। এমনটাই অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। সন্দেশখালি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী ভোলা ঘোষের ছেলে সত্যজিৎ ঘোষের মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য। বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি তার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে স্পষ্ট ভাবে বলেছেন এই ঘটনা রহস্যজনক। এবং এই ঘটনাটির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছেন এই ষড়যন্ত্রে শুধু শাহজাহান নয় জড়িত প্রশাসনও। 

তিনি আরও বলেন যে লরির চালক দুর্ঘটনা করেই এক বাইক চালকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে। যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বাসন্তী হাইওয়ের বয়ারমাড়ি এলাকায়। বসিরহাট মহকুমা আদালতে বৃহস্পতিবার হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল ভোলা ঘোষ, তাঁর ছেলে সত্যজিৎ ও গাড়ির চালক শাহানুরের। সকালেই তাঁরা রওনা দেন।

   

না জানিয়েই নাম ঘোষণা! সাভারকার পুরস্কারে বিরক্ত শশী

আর ঠিক সেই সময় মালঞ্চ থেকে ধামাখালীর দিকে যাচ্ছিল একটি খালি ট্রাক। মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় তাঁদের চার চাকা গাড়ি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় সত্যজিৎ ও শাহানুরের। ব্যবসায়ী ভোলা ঘোষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মিনাখাঁ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখান থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়।

দুর্ঘটনা কি, নাকি পরিকল্পিত আক্রমণ? এই প্রশ্নে এখন উত্তাল বসিরহাট থেকে কলকাতা পর্যন্ত রাজনৈতিক মহল। কারণ, ভোলা ঘোষ শুধু পুরনো ব্যবসায়িক বিরোধের সাক্ষীই নন, সন্দেশখালির রক্তাক্ত রাজনীতির মামলায় শাহজাহানের বিরুদ্ধে সরাসরি সাক্ষ্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ২০২২ সালে মাছের ব্যবসা নিয়ে শাহজাহান ও ভোলা ঘোষের মধ্যে লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ তৈরি হয়। ২০ লক্ষ টাকার চেক বাউন্সের ঘটনায় ভোলা শাহজাহানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। পাল্টা মামলা করেছিল শাহজাহানও।

এই পুরনো ব্যবসায়ী বিরোধের ওপর নতুন করে জমেছিল রাজনৈতিক চাপ। কারণ, শাহজাহানের বিরুদ্ধে CBI-র দায়ের করা এফআইআরে নথিভুক্ত রয়েছে খুন, তথ্য গোপন, দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত, অপহরণ, গুরুতর আঘাত-সহ একাধিক ধারার অভিযোগ। হাই কোর্টের নির্দেশে সিবিআই বসিরহাট আদালত থেকে পুরনো সব কেস পেপার সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। আর সেই তদন্তের মুখ্য সাক্ষীদের একজন ছিলেন ভোলা ঘোষ।

এই কারণেই বিজেপির অভিযোগ “এটা স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যার ছক।” শাহজাহান জেলে থেকেও পুরো সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন এমন মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, ভোলা ঘোষ ও তাঁর পরিবার বরাবরই শাহজাহানের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। এই সাক্ষ্য আদালতে পৌঁছনোর আগেই ভয় দেখানো বা সরানোর চেষ্টা হয়েছিল। নাজাট থানার পুলিশ অবশ্য বিষয়টিকে তদন্তের আওতায় এনে ট্রাকচালককে আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দুর্ঘটনার গতিপথ, ব্রেকিং পয়েন্ট, গাড়ির ক্ষয়ক্ষতির ধরন সবই খতিয়ে দেখছে ফরেনসিক টিম।

এদিকে, সন্দেশখালির ইতিহাসও ফের উঠে আসছে সামনে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর থেকেই ভাঙিপাড়ায় রাজনৈতিক অশান্তি চলছিল। অভিযোগ ছিল, ৮ জুন দুই বিজেপি কর্মী প্রদীপ ও সুকান্ত মণ্ডলকে গুলি করে খুন করা হয়। পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় তৃণমূল কর্মী কায়ুম আলি মোল্লার।

বিজেপির এক পরিবারের সদস্য দেবদাস মণ্ডল আজও নিখোঁজ। প্রথম এফআইআরে শাহজাহানের নাম থাকলেও CID–এর চার্জশিটে নাম বাদ পড়ে যায়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মৃতার স্ত্রী হাই কোর্টে যান। আদালতের নির্দেশে ফের তদন্তে নামে CBI।

এত জটিল পটভূমির মধ্যেই নির্মম এই সড়ক দুর্ঘটনা। যার ফলে প্রশ্ন আরও জোরালো শাহজাহান কি সত্যিই জেল থেকেই দিচ্ছিলেন ‘ডেথ ওয়ারেন্ট’ নাকি এটি কাকতালীয় এক দুর্ঘটনা? উত্তর খুঁজছে পুলিশ ও সিবিআই। অপেক্ষায় রাজ্যবাসীও।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন