পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করে আসছেন সি ভি আনন্দ বোস (C V Anand Bose) । রাজভবনে পা রাখার কিছু দিনের মধ্যেই হাতে-কলমে বাংলা শেখা শুরু করেন তিনি। প্রশাসনিক বৈঠক হোক কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান—সেখানেও বারবার বাংলা ভাষায় বক্তব্য রাখার চেষ্টা করেছেন রাজ্যপাল। ধীরে ধীরে রাজ্যের মানুষের কাছে তাঁর এই প্রয়াস প্রশংসিত হয়েছে।
তবে এতদিনেও তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। রাজ্যের প্রথম নাগরিক হলেও ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। কিন্তু এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ পর্যায়ে এসে আচমকাই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। জানালেন, এবার তিনি বাংলার ভোটার হতে চাইছেন। আর সেই সঙ্গে এক আবেগঘন বার্তাও দিলেন—“এই বাংলার দত্তক সন্তান হতে চাই।”
ফর্ম জমা দেওয়ার পর রাজ্যপাল বলেন, “রবীন্দ্রনাথ যে হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিয়েছিলেন, যে বাংলায় তাঁর সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্ম, সেই বাংলায় আমি ভোটার হতে চাই। আমার পদবী বোস—নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের মতোই। মানসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বাংলার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখতে চাই।” রাজ্যপালের এই বক্তব্যে একধরনের আবেগ ও প্রতিশ্রুতির ছোঁয়া স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, “এই রাজ্য আমাকে অনেক স্নেহ দিয়েছে, মানুষ আমাকে আপন করে নিয়েছে। তাই বাংলার দত্তক সন্তান হয়ে এখানকার সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে চাই।”
রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষপদে থাকার কারণে তিনি নানাভাবে বাংলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিজেকে বাংলার বাসিন্দা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চাওয়াই তাঁর এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যেই বাংলা ভাষা শেখার উদ্যোগ নিয়ে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। রাজভবনে বাংলা ভাষা শিখতে বিশেষ শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। বহু ভাষায় পারদর্শী বোস বাংলা ভাষা শেখায় স্পষ্ট আগ্রহ দেখান এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলা ব্যবহার করেন। অনেক সময় বাংলায় লেখা বক্তৃতা হাতে নিয়ে তা পড়ে শোনান এবং ভুল হলে সংশোধনও করে নেন। তাঁর এই মানসিকতা বাংলার ভাষাপ্রেমী মানুষের কাছে আলাদা মর্যাদা পায়।
