বোলপুর: বীরভূমের নানুর আজ সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে (RSS worker)। থানার সামনে শত শত বিজেপি কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ধর্না, স্লোগান আর অবরোধের মধ্যে দিয়ে তাঁরা দাবি তুলেছেন অবিলম্বে নিখোঁজ আরএসএস কর্মী রিন্টু পালকে উদ্ধার করতে হবে, দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে। এই আগুনের সূত্রপাত গতকাল, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি ভিডিও।
The person in the video is Rintu Pal, a RSS Swayamsevak from Angora village in the Nanoor block of Birbhum district, West Bengal.
He was abducted by anti-social elements of TMC, and was taken to their party office…
Rintu was threatened with dire consequences of mob lynching… pic.twitter.com/5iP3xGyxGr
— Sourish Mukherjee (@me_sourish_) January 18, 2026
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নানুরের আঙ্গোরা গ্রামের আরএসএস স্বয়ংসেবক রিন্টু পালকে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ঘিরে ধরা হয়েছে। চারপাশে জনা কয়েকজন যুবক, হাতে মোবাইল ক্যামেরা। একজনকে দেখা যাচ্ছে রিন্টুকে হাত জোড় করে দাঁড় করিয়ে বলতে বাধ্য করছেন, “আর জীবনে আরএসএস-বিজেপি করব না।” রিন্টু কাঁপা গলায় সেই কথা বলছেন, চোখে আতঙ্ক।
জিডিপি গ্রোথে তাবড় দেশকে পিছনে ফেলে বিশ্বসেরা মোদী সরকার
পিছনে কয়েকজন হাসছেন, চিৎকার করে বলছেন, “ভবিষ্যতে এসব করলে ফল খারাপ হবে।” এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য। অভিযোগ উঠেছে, উচকরণ অঞ্চলের তৃণমূল নেতা ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিলন শেখ, আজিজুল শেখ, সমীর শেখ, আদর শেখের নামও উঠে এসেছে।ঘটনার পর থেকেই রিন্টু পাল নিখোঁজ। পরিবারের লোকজন বলছেন, গতকাল বিকেলের পর থেকে তার কোনও খোঁজ নেই।
ফোন বন্ধ, বাড়িতে ফেরেনি। আতঙ্কে কাঁপছে তার বাড়ির লোকেরা। “আমরা শুধু রাজনৈতিক মতামত রাখি, কোনও অপরাধ করিনি। তবু কেন এমন হুমকি? কেন নিয়ে যাওয়া হল?” রিন্টুর এক আত্মীয় চোখে জল নিয়ে বললেন। বিজেপির স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, এটা শুধু একজন ব্যক্তির উপর আক্রমণ নয়, এটা গোটা আরএসএস-বিজেপি কর্মীদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অংশ।
ভোটের আগে তৃণমূলের “জঙ্গলরাজ” চালু হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করছেন।সকাল থেকে নানুর থানার সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। হাতে প্ল্যাকার্ড “রিন্টুকে ফেরাও”, “তৃণমূলের গুন্ডারাজ বন্ধ করো”, “পুলিশ নীরব কেন?”। কয়েকজন নেতা থানায় ডেপুটেশন দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ।
ফলে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। রাস্তা অবরোধ, স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপছে। “আরএসএস-বিজেপি করলে খুন করা হবে? এটা কি গণতন্ত্র?” এমন প্রশ্ন তুলে চিৎকার করছেন কর্মীরা। এলাকার বাসিন্দারাও অনেকে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, “এলাকায় শান্তি নেই। যে যা খুশি করে যাচ্ছে। পুলিশ দেখেও দেখছে না।”
