পটাশপুর: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর (Potashpur BJP joining news)বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এবং বাম শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপি যে সংগঠন মজবুত করার পথে হাঁটছে, তার স্পষ্ট ছবি ধরা পড়ল পটাশপুরের চিস্তীপুর–২ অঞ্চলে। রবিবার টোটা ফলকরা কালিমন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিজেপির এক পথসভা থেকে সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে মোট ১২টি পরিবার বিজেপিতে যোগ দিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই যোগদান কর্মসূচি ঘিরে চিস্তীপুর–২ এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। বিজেপির পথসভায় উপস্থিত ছিলেন কাঁথি সাংগঠনিক জেলার অন্যতম সদস্য ও শিক্ষক তাপস মাঝি। তাঁর হাত থেকেই দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন নতুন সদস্যরা।
রাজধানী সুরক্ষিত করতে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ‘ক্যাপিটাল ডোম’
যাঁরা এদিন দলবদল করেছেন, তাঁদের মধ্যে সিপিএম থেকে যোগ দিয়েছেন দীপঙ্কর আচার্য্য। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন শশাঙ্ক মেইকাপ, ভক্ত রাম জানা, প্রতাপ জানা-সহ আরও একাধিক কর্মী ও তাঁদের পরিবার। সব মিলিয়ে মোট ১২টি পরিবার বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হল বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নবাগত বিজেপি সদস্যদের বক্তব্যে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা। তাঁদের দাবি, “আমরা যে দলেই ছিলাম, সেখানে কোনও শান্তি ছিল না। কর্মীদের মতামতের কোনও মূল্য দেওয়া হত না। শুধুমাত্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর দাপটের রাজনীতি চলত।” বিজেপিতে যোগ দিয়ে তাঁরা নিজেদের নিরাপদ ও সম্মানিত বলেই মনে করছেন বলে জানিয়েছেন।
যোগদানকারীদের একাংশ আরও বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টির আদর্শ ও নেতৃত্ব তাঁদের আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও জাতীয়তাবাদের রাজনীতিই তাঁদের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করেছে। তাঁদের কথায়, “আজ বিজেপি পরিবারের সদস্য হতে পেরে আমরা গর্বিত। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপিকে উপহার দিতে চাই। দেশের নেতা নরেন্দ্র মোদীর হাত আরও শক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
বিজেপি নেতৃত্বের তরফে এই দলবদলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি করা হয়েছে। তাপস মাঝি বলেন, “পটাশপুরে তৃণমূল ও বাম শিবিরের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমছিল। আজ তার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। সাধারণ মানুষ বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন কারণ তাঁরা উন্নয়ন, সুশাসন ও নিরাপত্তা চান।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটাশপুর বিধানসভা এলাকায় এই ধরনের দলবদল আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও বামেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা বিজেপির পক্ষে জমি তৈরি করছে। যদিও শাসক ও বাম শিবিরের তরফে এই যোগদানকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় নেতারা। তাঁদের দাবি, “এগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, এর কোনও প্রভাব নির্বাচনে পড়বে না।”
তবে ভোটের মুখে একের পর এক পরিবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ যে বদলাতে শুরু করেছে, তা মানছেন অনেকেই। পটাশপুরে এই যোগদান বিজেপির সংগঠনে কতটা জোর এনে দেয়, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই। সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পটাশপুরে সিপিএম ও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ১২টি পরিবারের যোগদান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। এই ভাঙন আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
