তিন দিনেও কাটেনি জট! ধর্ণায় অনড় সায়ন্তিকা

শপথগ্রহণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজভবন-রাজ্য বিতর্ক অব্যাহত। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কাটলনা জট। গতকাল পরশুর মতোই শুক্রবারও বিআর আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধর্ণায় বসেছেন সায়ন্তিকা…

শপথগ্রহণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজভবন-রাজ্য বিতর্ক অব্যাহত। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কাটলনা জট। গতকাল পরশুর মতোই শুক্রবারও বিআর আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধর্ণায় বসেছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যেপাধ্যায় ও রায়াত হোসেন। এবার উপনির্বাচনে বরাহনগর কেন্দ্র থেকে শাসক দলের প্রার্থী হয়ে জয়ী হন সায়ন্তিকা ও ভগবানগোলা থেকে জয়ী হন রায়াত হোসেন। এদিন ধর্ণায় সায়ান্তিকাদের সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। যতদিন না পর্যন্ত শপথগ্রহণ হচ্ছে ততদিন তাঁরা ধর্ণা চালিয়ে যাবেন বলেই জানা দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

শপথগ্রহণ নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে এই ‘অনমনীয়’ মনোভাব আরও জটিলতা বাড়িয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজভবনে গিয়ে শপথগ্রহণের বিষয় বিগত কয়েকদিন ধরেই জটিলতা তুঙ্গে। নবনির্বাচিত বিধায়কেরা বিধানসভায় শপথ নেবে নাকি রাজভবনে তা নিয়ে বিরোধ বাঁধে রাজ্য প্রশাসন ও রাজভবনের মধ্যে।

   

সংবিধানগত জটিলতা তৈরি হওয়ায় গোটা বিষয়টি নিজের তত্ত্বাবধানে রেখে করাতে চেয়েছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। অচলাবস্থা কাটাতে বিধানসভার তরফে রাজভবনকে মঙ্গলবার চিঠি পাঠিয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়,শপথ বিধানসভাতেই হবে, কিন্তু রাজভবন চাইলে তাঁদের প্রতিনিধি বিধানসভায় আসবেন। তাঁদের উপস্থিতিতে শপথ বাক্য পাঠ করবেন নতুন বিধায়কেরা। যদিও সেই প্রস্তাবে এখনও পর্যন্ত ‘টু’ শব্দটি করেনি রাজভবন। তাঁদের এই ‘নীরবতা’ কিন্তু নিঃ সন্দেহে চিন্তায় ফেলছে রাজ্যের শাসক দলকে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বুধবার শপথ জট জটিলতা প্রসঙ্গে বিমান বন্দ্যেপাধ্যায় বলেন, ”সংবিধান মেনেই শপথগ্রহণ হবে। মাঠে-ঘাটে যেকোনও জায়গায় শপথ নেওয়া যায় না।”

তারপর চলতে থাকে চিঠি পাল্টা চিঠির তরজা। অচলায়তন বাড়তে থাকে, এমন অবস্থায় গতকাল রাজভবনের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “রাজভবনে মহিলারা যেতে নিরাপদ মনে করছেন না।” আর মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর পাল্টা কটাক্ষ করা হয় রাজভবনের তরফে। বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না রাজভবন। এদিকে শপথ নিয়ে জটিলতা কাটাতে উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গেও টেলিফোনে গোটা বিষয়টি আলোচনা করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এখনও পর্যন্ত এই জটিলতার বরফ না গলায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার।