HomeBharatPoliticsSIR এর কাজের চাপে আক্রান্ত ব্লক যুব আধিকারিক!

SIR এর কাজের চাপে আক্রান্ত ব্লক যুব আধিকারিক!

- Advertisement -

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এক ব্লক যুব আধিকারিক (BYO)-এর অসুস্থতা ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) কাজের অতিরিক্ত চাপে গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন পিংলা ব্লকের যুব আধিকারিক বিবেকানন্দ পাল। পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিবেকানন্দ পালের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ব্লকের হাসচড়া এলাকায়। কর্মসূত্রে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকে ব্লক ইউথ অফিসার হিসেবে কর্মরত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধন ও সংযোজনের বিশেষ পর্ব—SIR কাজ। আর সেই কাজের চাপ যে কতটা প্রবল, তা নিয়ে বহুদিন ধরেই বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে অসন্তোষ শোনা যাচ্ছিল। অভিযোগ, অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ, প্রতিদিনের লক্ষ্য পূরণে চাপ, হঠাৎ হঠাৎ রাতভর অতিরিক্ত দায়িত্ব—এসবই ক্লান্তি ও মানসিক চাপ তৈরি করছিল।

   

যুগের অবসান: আইপিএল থেকে অবসর নিলেন আন্দ্রে রাসেল

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিবেকানন্দ পাল গত দু-তিন দিন ধরে প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু সরকারি দায়িত্বের কারণে বিশ্রাম নিতে পারেননি। শুক্রবার সকালে হঠাৎই তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রথমে তাঁকে ভর্তি করা হয় তমলুক মেডিকেল কলেজে। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন, এবং তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানান ডাক্তাররা। এরপরই জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে কলকাতার Neuro Science Hospital, মল্লিকবাজার-এ রেফার করা হয়।

বিকেল নাগাদ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে কলকাতার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে রয়েছেন পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং সহকর্মী। হাসপাতালে পৌঁছে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই তাঁর পরবর্তী চিকিৎসা হবে।

এই ঘটনার পর প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—অতিরিক্ত কাজের চাপে সরকারি কর্মীরা যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে দায় কার? অনেক কর্মীই জানিয়েছেন, SIR পর্বে কাজের পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় যে স্বাভাবিক অফিসের সময়সূচি কার্যত কোনো কাজে আসে না। সকাল থেকে রাত অবধি কাজ, মাঠে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ, নথি যাচাই, এবং বারবার রিপোর্ট আপডেট—সব মিলিয়ে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। অনেক ব্লক কর্মীই অভিযোগ করেছেন যে, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই ওপর থেকে ক্রমাগত নির্দেশ আসছে, যার ফলে মানসিক ও শারীরিক চাপ বেড়েই চলছে।

একাধিক কর্মী দাবি করেছেন যে, বিবেকানন্দ পালের মতো আরও কয়েকজন কর্মী গত কয়েক দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যদিও সরকারি দফতর সূত্রে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু ব্লক অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিবেকানন্দ পাল অত্যন্ত নীরব প্রকৃতির এবং দায়িত্বনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। কাজের চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিটি কাজ যথাসাধ্য সম্পন্ন করার চেষ্টা করতেন।

স্থানীয়দের মতে, ব্লক স্তরে কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলক কম, অথচ SIR-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তৃত কাজ সামলাতে হয় মাত্র কয়েকজনকে দিয়ে। ফলে চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই ঘটনার পরে সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, SIR-এর অতিরিক্ত দায়িত্বই বিবেকানন্দ পালের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ। তাঁরা সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, সরকারি কর্মীদের জন্য মানবিক কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার।

বর্তমানে বিবেকানন্দ পালের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসকেরা পর্যবেক্ষণ করছেন। জেলার প্রশাসন তাঁর অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে—একটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাজ যদি সরকারি কর্মীকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়, তবে সেই ব্যবস্থার কোথায় সংশোধন দরকার?

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular