
কলকাতা: ‘হিন্দু বলেই বাদ দিয়েছেন হুমায়ুন চাচা’। (Nisha Chatterjee)এমনটাই অভিযোগ করেছেন হুমায়ুন কবিরের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টির বালিগঞ্জের প্রার্থী নিশা চ্যাটার্জী। গতকাল নিজের নতুন দল ঘোষণা করে ১০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবির। সেই ১০ জনের মধ্যে ছিলেন বালিগঞ্জের প্রার্থী নিশা। সোশ্যাল মিডিয়াতে খোলামেলা পোশাকে ব্লগ এবং শর্ট ভিডিওর জেরে আজ তাকে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেন হুমায়ুন।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়েই নিশা বলেন হিন্দু হয়ে বাবরি মসজিদকে সমর্থন করেছি, তারপরও আমায় বাদ দিয়ে মুসলিম প্রার্থী দেওয়া হবে। তাহলে এই দল সেক্যুলার কি করে হল। হিন্দু বলেই বাদ পড়েছি। পোশাক বিতর্কে বলেন নিশা বলেন তিনি একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। কাজেই তার প্রোফাইলে ব্যাক্তিগত ছবি থাকাটা স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন যারা এই ধরণের ভিডিও বানায় তারা কি সমাজে বাসযোগ্য নয়। তুলনা টেনে নিশা বলেন তৃণমূলের সায়নী, নুসরাত বা মিমি যখন খোলামেলা পোশাকে বা সিগারেট ধরানোর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে দেন তখন তো কেউ আপত্তি করে না।
তারপরেও তারা সাংসদ হয়েছে। তবে আমি কি দোষ করেছি? হুমায়ুন কবির নিজের বিবৃতিতে সংবাদ মাধ্যমে বলেন বিধানসভা একটি পবিত্র জায়গা সেখানে এই ধরণের খোলামেলা পোশাক পরিহিতদের কোনও জায়গা নেই। এই বিতর্কের সূত্রপাত গত সোমবার। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বিশাল জনসভা থেকে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ভরতপুরের সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
সেই মঞ্চেই ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ১০টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন তিনি। তালিকায় ছিল কলকাতার বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত নিশা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং উচ্ছ্বসিতও হয়েছিলেন। কিন্তু রাত পোহাতে না পোহাতেই ছবি বদলে যায়। মঙ্গলবার সকালে হুমায়ুনের তরফে জানানো হয়, নিশার নাম প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তার পরিবর্তে বালিগঞ্জে মুসলিম প্রার্থী দেওয়া হবে।
আগামী সাত দিনের মধ্যে নতুন নাম ঘোষণা করা হবে।হুমায়ুন কবীরের ব্যাখ্যা, নিশার সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও রয়েছে যা দলের ভাবমূর্তির পক্ষে যায় না। তিনি বলেন, “বিধানসভা একটা পবিত্র জায়গা। সেখানে খোলামেলা পোশাক পরিহিত বা এমন কনটেন্ট তৈরি করা ব্যক্তিদের জায়গা নেই। রাজনীতিতে সবকিছু গ্রহণযোগ্য নয়।” সূত্রের খবর, নিশার খোলামেলা পোশাকের শর্ট ভিডিও এবং ব্লগ নিয়ে দলের অন্দরে এবং বাইরে চাপ পড়ে। ফলে এই সিদ্ধান্ত।










