মঙ্গলবার সকালে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী গুরুদ্বার বাংলা সাহিবে প্রার্থনায় অংশ নিলেন BJP-র নতুন (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এই ধর্মীয় স্থানে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গুরুদ্বারে গিয়ে তিনি শিখ ধর্মের গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নতির জন্য প্রার্থনা করেন।
সকালবেলা গুরুদ্বার বাংলা সাহিবে পৌঁছে নীতিন নবীন প্রথমে গুরু গ্রন্থ সাহিবের সামনে মাথা নত করেন। এরপর গুরুদ্বারের রীতি (BJP) মেনে তিনি প্রার্থনায় অংশ নেন এবং কিছু সময় ধ্যানেও বসেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। গুরুদ্বার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
নীতিন নবীন প্রার্থনা শেষে বলেন, “দেশের মানুষের আশীর্বাদ ও ঈশ্বরের কৃপা ছাড়া কোনও বড় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব নয়। গুরুদ্বারে এসে আমি দেশবাসীর কল্যাণ, শান্তি ও ঐক্যের জন্য প্রার্থনা করেছি।” তিনি আরও জানান, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আগে এই আধ্যাত্মিক মুহূর্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুদ্বার বাংলা সাহিব শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং দিল্লির অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ প্রার্থনার জন্য আসেন। এমন এক স্থানে গিয়ে প্রার্থনা করার মাধ্যমে নীতিন নবীন ধর্মীয় সহনশীলতা ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
BJP-র নতুন (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে নীতিন নবীনের সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সামনে রয়েছে একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পরেই লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি। দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, যুব ও মহিলা কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং রাজ্যস্তরে নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের আগেই গুরুদ্বারে প্রার্থনায় যাওয়া তাঁর নেতৃত্বের ধরণ সম্পর্কে একটি বার্তা দিচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে। তিনি যে কেবল রাজনৈতিক কৌশলের উপর নির্ভর করবেন না, বরং মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার গুরুত্বও সমানভাবে বিবেচনা করবেন, তারই ইঙ্গিত মিলছে এই সফর থেকে।
দলের অন্দরমহলেও নীতিন নবীনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক চোখে দেখা হচ্ছে। BJP নেতৃত্বের একাংশের মতে, দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য এমন প্রতীকী পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভালো প্রভাব ফেলতে পারে।
গুরুদ্বার সফর শেষে নীতিন নবীন সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তিনি জানান, তাঁর লক্ষ্য একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নত ভারতের পথে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, “ভারত বৈচিত্র্যের দেশ। সব ধর্ম, সব সংস্কৃতির মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে।”
