কলকাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের নেতাই যে নামটা (Netai)শুনলেই ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারির কালো অধ্যায় মনে পড়ে যায়। লালগড়ের নেতাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সিপিআইএম কর্মীদের গুলিতে ৯ জন নিরীহ গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছিলেন। শিলশাহি গ্রামের সেই গণহত্যা জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। বাম আমলের সেই সন্ত্রাসের ছায়া আজও মানুষের মনে।
কিন্তু এখন সেই নেতাইয়েই পরিবর্তনের ডাক দিয়ে এসেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ। বাম-তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাস ও অবহেলা ভুলিয়ে দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের বার্তা নিয়ে তিনি পৌঁছেছেন গ্রামের মাটিতে।সম্প্রতি শিলশাহি গ্রামে জনসংযোগ কর্মসূচিতে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কমিশনের নির্দেশে অস্বস্তিতে রাজ্য, চার আধিকারিকের জবাব তলব
বহু গ্রামবাসী এসে জড়ো হয়েছিলেন। অনেকের চোখে-মুখে ছিল সেই পুরনো ক্ষতের চিহ্ন, কিন্তু সঙ্গে ছিল আশার আলো। দিলীপ বলেছেন, “বাম আমলে এখানে যা হয়েছে, তা কোনওদিন ভোলা যায় না। তারপর তৃণমূল ক্ষমতায় এসে এই এলাকার মানুষকে শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু জীবনযাত্রার মান বাড়েনি, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা কোনও ক্ষেত্রেই উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েনি।
জঙ্গলমহলের এই ছবিটা এবার বদলাতে হবে।” গ্রামবাসীরা একবাক্যে বলছেন, “পাল্টানো দরকার। আর কতদিন এভাবে চলবে?”নেতাইয়ের ঘটনা ছিল জঙ্গলমহল আন্দোলনের একটা টার্নিং পয়েন্ট। সিপিআইএমের লালঝাণ্ডা তখন সন্ত্রাসের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। পরে তৃণমূল ক্ষমতায় এসে ‘পরিবর্তন’-এর নামে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে জঙ্গলমহলের আদিবাসী-গরিব মানুষের জীবনে খুব একটা বদল আসেনি।
দিলীপ ঘোষের কথায়, “বাম-তৃণমূল মিলে এই এলাকাকে সন্ত্রাস আর অবহেলার জায়গা বানিয়ে রেখেছে। বিজেপি এবার সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে চায় যেখানে উন্নয়ন হবে, নিরাপত্তা থাকবে, আর কোনও রাজনৈতিক দলের গুন্ডামি চলবে না।” তিনি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ‘পালাবদলের’ মহাযুদ্ধ বলে বর্ণনা করেছেন।জনসভায় উপস্থিত গ্রামবাসীদের মধ্যে অনেকেই সেই ২০১১-এর ঘটনার সাক্ষী।
একজন বয়স্কা মহিলা বললেন, “ওই দিন আমার ছেলে মারা গিয়েছিল। তৃণমূল এসে বলেছিল সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু কিছুই হয়নি। এবার বিজেপি যদি সত্যি উন্নয়ন করে, তাহলে সমর্থন করব।” আরেক যুবকের কথা, “এখানে কাজ নেই, রাস্তা ভাঙা, হাসপাতাল দূরে।
পরিবর্তন চাই, যে কোনও দল থেকে হোক।” দিলীপ ঘোষ এদের কথা শুনেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে জঙ্গলমহলকে প্রাধান্য দেবে আদিবাসীদের জন্য বিশেষ প্রকল্প, কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নয়ন।
এই সফর দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক পুনরুত্থানেরও একটা অংশ। দলের অন্দরে কিছুদিন ব্রাত্য থাকার পর তিনি আবার সক্রিয়। ২০২৬-এর ভোটে বিজেপির হয়ে তিনি ময়দানে নামছেন জোরালোভাবে। নেতাইয়ের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় গিয়ে তিনি বাম-তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে মানুষের আবেগকে ছুঁয়েছেন।
এটা বিজেপির কৌশলের অংশ জঙ্গলমহলের ভোটব্যাঙ্ককে টানা, যেখানে ২০২১-এও দল ভালো ফল করেছিল।তবে চ্যালেঞ্জও আছে। তৃণমূল এখনও এলাকায় শক্তিশালী, স্থানীয় নেতাদের নেটওয়ার্ক মজবুত। বিজেপিকে সংগঠন আরও শক্ত করতে হবে, কর্মীদের একত্রিত রাখতে হবে। দিলীপের কথায়, “মানুষ পরিবর্তন চায়। ২০২৬-এ নেতাই থেকে শুরু করে পুরো জঙ্গলমহলে পালাবদল হবে।”
