তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ময়দানে এখন উত্তেজনা তুঙ্গে (NDA)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এনডিএ জোটের গেম প্ল্যান নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগির একটা সম্ভাব্য সূত্র ঘুরপাক খাচ্ছে যেখানে এআইএডিএমকে পাচ্ছে ১৫০টি আসন, বিজেপি ৪৫টি, পিএমকে ১৮টি, এএমএমকে ১০টি, ডিএমডিকে ৮টি (প্লাস একটি রাজ্যসভা আসন), আর টিএমসি(এম) পাচ্ছে ৩টি (প্লাস একটি রাজ্যসভা)।
মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে এই ভাগাভাগি যদি চূড়ান্ত হয়, তাহলে তামিলনাড়ুর মসনদ ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াইটা এনডিএ-র জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।এই ফর্মুলাটা আসলে এআইএডিএমকে-কে জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে রেখেছে। এডাপ্পাড়ি কে. পলানিস্বামী (ইপিএস)-এর নেতৃত্বে এই দল এখনও তামিলনাড়ুর বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
পুরনো ছন্দে রবি-সায়নরা, জয় দিয়েই সন্তোষ ট্রফি শুরু করল বাংলা
২০২১-এর নির্বাচনে তারা ৬৬টি আসন পেয়েছিল, কিন্তু এবার বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে ভোটের ট্রান্সফারটা ভালো হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে অনেকটা এগিয়ে যেতে পারে। বিজেপি ৪৫টি আসন দাবি করছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২১-এ তারা মাত্র ২৫টি আসনে লড়েছিল এবং চারটিতে জিতেছিল। এখন অন্নামালাই-এর মতো নেতাদের সরিয়ে নতুন করে সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা চলছে।
বিজেপির লক্ষ্য শুধু আসন নয়, পরে সরকার গঠনে ক্যাবিনেটে ভালো শেয়ার পাওয়া।পিএমকে-র ১৮টি আসনের প্রস্তাবটা উত্তর তামিলনাড়ুর ভানিয়ার ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করছে। অঙ্কুমানি রামদাসের নেতৃত্বে পিএমকে জানুয়ারি ২০২৬-এ জোটে যোগ দিয়েছে। আগে তারা ২৩টি আসন চেয়েছিল, কিন্তু এখন ১৮-এ নেমে এসেছে। এটা জোটের জন্য বড় লাভ, কারণ ভানিয়ার ভোট ছাড়া উত্তর জেলাগুলোতে জয় অসম্ভব।
অন্যদিকে এএমএমকে (টিটিভি দিনকরন) ১০টি আসন পেলে দক্ষিণ তামিলনাড়ুর মুক্কুলাথোর সম্প্রদায়ের ভোটটা একত্রিত হবে। দিনকরন সম্প্রতি এনডিএ-তে ফিরে এসেছে, যা জোটকে আরও শক্তিশালী করেছে।ডিএমডিকে-র ৮টি আসন আর টিএমসি(এম)-এর ৩টি এগুলো ছোট হলেও নির্দিষ্ট এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ডিএমডিকে-র প্রেমলতা বিজয়কান্তের নেতৃত্বে দলটা আগে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে ছিল, এখন আবার ফিরছে। রাজ্যসভার আসনগুলো দিয়ে ছোট দলগুলোকে খুশি রাখার চেষ্টা চলছে।এই গেম প্ল্যান যদি সফল হয়, তাহলে এনডিএ-র ভোট শেয়ার ৪৫-৫০ শতাংশের কাছাকাছি চলে আসতে পারে।
২০২৪-এর লোকসভায় আলাদা লড়ে তারা শূন্য হয়েছিল, কিন্তু এবার একসঙ্গে লড়লে ডিএমকে-র বিরুদ্ধে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারবে। ডিএমকে-র বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি, দুর্নীতির অভিযোগ, বেকারত্ব এসব ইস্যু তুলে এনডিএ মাঠে নামছে। ইপিএস-কে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী করে বিজেপি জোটকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, যা ড্রাভিড়িয়ান ভাবধারার সঙ্গে হিন্দুত্বের মিশেল ঘটাচ্ছে।
