কলকাতা: জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) দেশজুড়ে গণতন্ত্রের উৎসব পালনের বার্তা দিচ্ছে। ঠিক তখনই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি “ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার” অভিযোগ তুলে এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে মমতা দাবি করেছেন জাতীয় ভোটার দিবস পালন আসলে একটি “দুঃখজনক প্রহসন”।
মমতা আরও বলেন নির্বাচন কমিশন এখন আর একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে কাজ করছে না, বরং “His Master’s Voice” হিসেবে ক্ষমতাসীন বিজেপির নির্দেশ পালন করছে। অভিযোগ, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করার পরিবর্তে কমিশন একের পর এক অজুহাত খাড়া করে ভোটারদের হয়রানি করছে এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ছাঁটাইয়ে আর্থিক ‘ধাক্কা’ কলকাতার!
মমতা তার বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগও তুলেছেন। তিনি বলেছেন আদালতের রায় অনুযায়ী নিয়ম ও নীতির মধ্যে থেকে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বদলে নির্বাচন কমিশন তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র নামে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। এর ফলে বহু মানুষ কার্যত ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাগরিকদের নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৮৫, ৯০ এমনকি ৯৫ বছর বয়সী মানুষদেরও কমিশনের সামনে সশরীরে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে নিজেদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় প্রমাণের জন্য। শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কোনও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এই অমানবিক চাপের ফলে বহু মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।
মমতা দাবি করেছেন এই ধরনের চাপ ও হয়রানির কারণে ইতিমধ্যেই ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কেউ মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করেছেন, কেউ আবার অতিরিক্ত চাপ ও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। অথচ এই মৃত্যুর দায় নিতে প্রস্তুত নয় নির্বাচন কমিশন।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, গোটা প্রক্রিয়াটিকে কার্যত একটি ‘এনআরসি ট্রায়াল’-এ পরিণত করা হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত নাগরিকদের বেশি করে নিশানা করা হচ্ছে । তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক যন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগে সরব মুখমন্ত্রী।
মমতার দাবি নির্বাচন মানে গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং অতিরিক্ত ‘মাইক্রো অবজারভার’ পাঠিয়ে হয়রানি করার নীতির ফলে সেই উৎসব আজ আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। “মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করা যায় না” এই ভাষাতেই কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে।
ঠিক এই কারণেই মমতা দাবি করেছেন আজকের দিনে নির্বাচন কমিশনের আদৌ কোনও নৈতিক অধিকার নেই জাতীয় ভোটার দিবস পালনের। তাঁদের মতে, আগে কমিশনকে নিজের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং ভোটাধিকার সুরক্ষায় স্বচ্ছ ও মানবিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এই অভিযোগগুলির জবাব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়নি, রাজনৈতিক মহলের মতে এই বিতর্ক আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আরও তীব্র হবে। জাতীয় ভোটার দিবসের দিনেই এই ধরনের অভিযোগ দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।
