নন্দীগ্রামে বাম মডেলে হামলা! এবার কাঠগড়ায় তৃণমূল

নন্দীগ্রাম: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা (Nandigram BJP worker)। বিজেপির অভিযোগ, নন্দীগ্রাম থানার আইসি-র নির্দেশে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ “সিভিল পোশাকে থাকা পুলিশ ও দুষ্কৃতীরা” এক…

nandigram-bjp-worker-home-attack-allegation

নন্দীগ্রাম: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা (Nandigram BJP worker)। বিজেপির অভিযোগ, নন্দীগ্রাম থানার আইসি-র নির্দেশে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ “সিভিল পোশাকে থাকা পুলিশ ও দুষ্কৃতীরা” এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে চড়াও হয়ে বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে।

Advertisements

ঘটনাটি ঘটেছে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের জেলেপাড়া গ্রামে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এক দলিত (SC) সম্প্রদায়ভুক্ত বিজেপি কর্মী, যিনি দলীয় কাজে সক্রিয় থাকার কারণেই টার্গেট হয়েছেন বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।

   

CAA সার্টিফিকেট বৈধ! মতুয়া সমাজে মাস্টারস্ট্রোক পদ্মের

খবর পেয়েই ঘটনা স্থলে পৌঁছে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপি কর্মীকে বাড়িতে না পেয়ে হামলাকারীরা তাঁর স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, তাঁদের মারধর করা হয় এবং ভয় দেখানো হয়। শুভেন্দু দাবি করেছেন আহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনার পর পরিবারটি আতঙ্কে রয়েছে। এই ঘটনাকে “আইনের নামে গুন্ডামি” বলে আখ্যা দিয়েছে বিজেপি।

রাজ্য বিজেপির এক নেতা বলেন, “এটা কোনও পুলিশি অভিযান নয়, এটা বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা। একজন নিরীহ বিজেপি কর্মীকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও শিশুকে মারধর করা নিন্দনীয়। দলিত পরিবারকে নিশানা করে ভয় দেখানো হচ্ছে।” বিজেপির তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নন্দীগ্রামে বিরোধীদের সংগঠন ভাঙতেই প্রশাসনের একাংশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির দাবি, নন্দীগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী এই মাটি একসময় বামফ্রন্ট সরকারকে উৎখাত করেছে, ২০২১ সালেও শাসকদলকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে ফেলেছে। তাই এই এলাকায় বিরোধীদের কণ্ঠ দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শাসক শিবির।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। এক তৃণমূল নেতা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ পুলিশ করে। কোনও রাজনৈতিক নির্দেশে মারধরের প্রশ্নই ওঠে না। বিজেপি আবার victim card খেলছে।”

পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কোনও লিখিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, যদি কোনও বেআইনি আচরণ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রেক্ষিতে মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, নারী ও শিশুর উপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আনা জরুরি।

নন্দীগ্রামের এই ঘটনা ফের রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে বিরোধীদের অভিযোগ রাজনৈতিক দমনপীড়ন ও প্রশাসনিক পক্ষপাত, অন্যদিকে শাসকদলের দাবি বিজেপির রাজনৈতিক নাটক। সত্য কোথায়, তা নির্ভর করবে তদন্তের ফলাফলের উপরই। তবে এটুকু স্পষ্ট, নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক সংঘাতের উত্তাপ এখনও কমেনি, বরং নতুন করে চড়ছে।

Advertisements