নন্দীগ্রাম: মিথ্যে মামলায় বিজেপি কার্যকর্তা গৌরাঙ্গ কে গ্রেফতার এবং মাতৃশক্তির (Nandigram BJP protest)উপর ‘অমানবিক পুলিশি অত্যাচারের’ অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। শুক্রবার বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা কমিটির ডাকে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড থেকে জানকীনাথ মন্দির পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন, যা কার্যত রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনে পরিণত হয়।
বিজেপির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে বিরোধী কণ্ঠ রোধ করতে একের পর এক বিজেপি কার্যকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামা মহিলা কর্মীদের উপর পুলিশ নির্মম আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনা রাজ্যে গণতন্ত্রের ক্রমাবনতি এবং প্রশাসনের দলদাসত্বের নগ্ন উদাহরণ।
টেস্ট–টি-টোয়েন্টির পর ‘একদিনের ক্রিকেট’কে কবে বিদায়? জানিয়ে দিলেন হিটম্যান
মিছিল শেষে জানকীনাথ মন্দির চত্বরে আয়োজিত জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বলেন, “যা চলছে তা শাসন নয়, বর্বরতা। রাজ্যজুড়ে ভয় ও দমননীতির মাধ্যমে বিরোধীদের চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” তাঁদের মতে, পুলিশকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে শাসক দল।
বক্তৃতায় আরও অভিযোগ করা হয়, মা-বোনদের উপর লাঠিচার্জ ও ধাক্কাধাক্কি করে তৃণমূল সরকার মানবিকতার সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “মাতৃশক্তির উপর হাত তোলা কোনও সভ্য সরকারের পরিচয় হতে পারে না। এটা গণতন্ত্রের উপর অন্ধকার আঘাত।” এই বক্তব্য ঘিরে জনতার মধ্যে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ‘অত্যাচার ও গুন্ডারাজ’-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়। তাঁদের দাবি, যতদিন না এই ‘অগণতান্ত্রিক সরকার’ ক্ষমতা থেকে সরে যাচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। শাসক দলের নেতাদের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যে আইনের শাসন বজায় রয়েছে এবং কোনও নির্দোষকে হয়রানি করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। একসময়কার রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রাম আবারও রাজ্য রাজনীতির ফোকাসে চলে এসেছে।
বিজেপির এই কর্মসূচি যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের প্রতিবাদ মিছিল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমবঙ্গে কি সত্যিই গণতান্ত্রিক পরিসর সঙ্কুচিত হচ্ছে, নাকি এটি রাজনৈতিক চাপানউতোরেরই আরেক অধ্যায়? উত্তর খুঁজছে রাজ্যবাসী।
