কলকাতা: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে (opinion poll)রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। আর এবারের লড়াইয়ে সবচেয়ে চর্চিত জেলাগুলির মধ্যে অন্যতম নদীয়া। সাম্প্রতিক একটি জনমত সমীক্ষায় (opinion poll) নদীয়ার ১৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ১২টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ফলাফল যদি বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, তাহলে নদীয়া হয়ে উঠতে পারে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
নদীয়া জেলা সবসময়ই সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব প্রবল, যারা ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপির সমর্থক। ২০২১ এর বিধানসভায় নদিয়া জেলার মোট ১৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল।
প্রজাতন্ত্র দিবসে কলকাতায় কড়া নিরাপত্তা, ২৪ তারিখ থেকেই যান নিয়ন্ত্রণ
এই জেলায় বিজেপি প্রায় ৪৩.৯% ভোট পেয়েছিল। পাল্টা ২০২১ সালের নির্বাচনে TMC এখানে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন দখল করলেও, মতুয়াদের সিটিজেনশিপ ইস্যু নিয়ে বিজেপির প্রচার এবার আরও জোরদার। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি, স্থানীয় অসন্তোষ এবং সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগ বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
বিশেষ করে কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, চাকদহ, কালিয়াগঞ্জের মতো আসনে বিজেপির লিড অনেক বেশি। অন্যদিকে TMC-র পক্ষ থেকে এই সমীক্ষাকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে খারিজ করা হয়েছে। দলীয় নেতারা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী এখনও গ্রামবাংলায় জনপ্রিয়। নদীয়ায় সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাবও উল্লেখযোগ্য, যা TMC-র পক্ষে যায়।
দলের দাবি, SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম কাটা যাচ্ছে, যা তাদের ভোটব্যাঙ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কিন্তু বিজেপি বলছে, এটা জাল ভোটার পরিষ্কারের প্রক্রিয়া, যা নির্বাচনকে স্বচ্ছ করবে।নদীয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, এখানে লড়াই সবসময় কাছাকাছি হয়েছে। ২০১৬-এ TMC-র দাপট ছিল, ২০২১-এ বিজেপি অনেক আসন কেড়ে নেয়।
এবার মতুয়া নেতা শান্তনু ঠাকুরের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক, স্থানীয় নেতাদের সক্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ফোকাস বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, যদি বিজেপি নদীয়ায় ১২টি আসন পায়, তাহলে উত্তরবঙ্গ ও সীমান্ত জেলাগুলিতে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
TMC-র জন্য এটা বড় ধাক্কা, কারণ নদীয়া তাদের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি ছিল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নদীয়ার ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক ছবিতে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি বিজেপি এখানে বড় লিড নেয়, তাহলে অন্যান্য জেলায়ও তাদের গতি বাড়বে।
অন্যদিকে TMC যদি এখানে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তাহলে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা সহজ হবে। এখনও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়নি, কিন্তু মার্চ-এপ্রিলে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা। এর মধ্যে SIR-এর বিতর্ক, ফর্ম ৭-এর চাপানউতোর, স্থানীয় ইস্যু সব মিলিয়ে নদীয়া এখন রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র।
