মুর্শিদাবাদ সাম্প্রদায়িক হিংসায় হিন্দু খুনে বড় সিদ্ধান্ত আদালতের

murshidabad-riots-hindu-murder-jangipur-court-verdict

কলকাতা: ওয়াকফ আন্দোলনের জেরে খুন হয়েছিলেন চন্দন দাস এবং হরগোবিন্দ দাস। এই হত্যা মামলায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করল জঙ্গিপুর আদালত। ওয়াকফ আন্দোলনের নামে খুন হতে হয় চন্দন এবং হরগোবিন্দ কে। বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাদের। মুর্শিদাবাদের ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের এপ্রিল মাসে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পাস করা ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, সুতি, সামশেরগঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু এলাকায় তা হিংসাত্মক রূপ নেয়। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সংঘর্ষে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে নৃশংস ছিল জাফরাবাদের হরগোবিন্দ এবং চন্দন দাসের হত্যা।

   

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, অভিযুক্তরা বাড়ির দরজা ভেঙে বাবা-ছেলেকে টেনে বের করে রাস্তায় কুপিয়ে হত্যা করে। চার্জশিটে ৯৮৩ পৃষ্ঠার বিস্তারিত বিবরণে এই নৃশংসতার ছবি ফুটে ওঠে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেয়, যাদের সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের এই রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় শাস্তির অপেক্ষায় এখন তারা।

এই রায়ের পর মুর্শিদাবাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। এই ঘটনা প্রসঙ্গে কার্তিক মহারাজ বলেন এখনও মুর্শিদাবাদে হিংসার ছবি স্পষ্ট। এখনও সেখানে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাসা বেঁধে রয়েছে। তিনি আরও বলেন এই পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বেড়েই চলেছে এবং হিন্দুরা তার বলি হচ্ছে। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রসঙ্গও।

হিংসার সময় কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং তদন্তে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও উঠে আসে। ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে হিংসা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, কিন্তু বিরোধীরা এটাকে সরকারের তোষণ নীতির ফল বলে সমালোচনা করেন। এই মামলায় নিহতদের পরিবার CBI তদন্তের দাবি তুললেও হাইকোর্ট সেই আর্জি খারিজ করে। তবে আদালতের এই সাম্প্রতিক রায় ন্যায়ের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন