বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘দা’ বললেন মোদী, নাকখত দিলেও ক্ষমা নয়’, তীব্র আক্রমণ মমতার

লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনা চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন। এই ঘটনাটি দ্রুতই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।…

Modi Addresses Bankimchandra as ‘Da’; Mamata Hits Back, Says ‘No Forgiveness Even with Flattery’

লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনা চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন। এই ঘটনাটি দ্রুতই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। লোকসভায় মোদীর এই সম্বোধনকে অনেকেই হালকা ভাবেই নিয়েছিলেন, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)এ ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

Advertisements

মঙ্গলবার কোচবিহারের একটি জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মোদীর উপর তীব্র আক্রমণ চালান। তিনি বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিমদা বলছেন। যেন মনে হচ্ছে শ্যামদা, হরিদা। জাতীয় গানের প্রতিষ্ঠাতাকে এতটুকু সম্মান দিলেন না! মাথা নীচু করে, নাকখত দিলেও আপনাদের ক্ষমা হবে না।” মমতার এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শিত অসম্মানকে অনুধাবন করতে পারছেন না এবং এটি সাংস্কৃতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলেও উল্লেখ করছেন।

   

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একজন অমর ব্যক্তিত্ব। ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা হিসেবে তিনি জাতীয় চেতনার সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। তাই, তাঁর প্রতি অসম্মানজনক সম্বোধন যেমন ‘বঙ্কিমদা’—যা অপ্রাতিষ্ঠানিক এবং বন্ধুবৎসল মনে হলেও প্রথাগত ও ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে তা তুচ্ছভাবে মনে হয়—সে বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব ও অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মমতার বক্তব্যে আরও বলা হয়, জাতীয় গানের প্রতিষ্ঠাতাকে সম্মান না দিলে, তা শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি অসম্মান নয়, বরং বাংলার ও দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি অবজ্ঞার প্রতীক হিসেবেও ধরা যায়। তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী হোক বা অন্য কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, সকলকেই আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে যথাযথ শ্রদ্ধা দিয়ে সম্বোধন করতে হবে। কোচবিহারের জনসভায় মমতার ক্ষোভ প্রকাশের ধরন বেশ তীব্র ছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘নাকখত দিলেও ক্ষমা হবে না’ বলার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, জাতীয় চেতনার প্রতি এমন অসম্মান সরাসরি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করিয়েছেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদান চিরকাল বাংলার সাংস্কৃতিক ও জাতীয় ইতিহাসে অমলিন থাকবে এবং তা কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ দিয়ে ছোট করা যাবে না।

 

Advertisements