
সংখ্যালঘু হয়েও বিজেপি করার ‘অপরাধে’ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, জমি দখল, (minority BJP)সামাজিক বয়কট ও মারধরের অভিযোগ এই সবকিছু মিলিয়ে চরম উত্তেজনার ছবি উঠে এল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না ব্লক থেকে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ময়না পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শেখ শাহজাহান আলির পরিবার। যদিও পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু তিল খোজা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা হোসেন। তিনি ৩৯ নম্বর বুথের বিজেপি বুথ সভাপতি এবং দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও বিজেপি করায় তাঁকে একাধিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতা নয়, সামাজিকভাবেও তাঁকে একঘরে করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ।
ইতালির সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি, ভারতে আসছে ব্ল্যাক শার্ক টর্পেডো
মোস্তফা হোসেনের দাবি, শুক্রবার সকালে তিনি যখন মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন, সেই সময় ময়না পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতি শেখ শাহজাহান আলির ছেলে ফায়েজ আলী তাঁকে পথ আটকে মারধর করেন। অভিযোগ, ঘাড়, পিঠ ও পায়ে বাটাম দিয়ে আঘাত করা হয়। মারধরের জেরে তিনি মসজিদের কাছেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ময়না হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ঘটনায় ময়না থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মোস্তফার অভিযোগ, তিনি বিজেপি করেন বলেই তাঁর উপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি তাঁকে মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সামাজিকভাবে বয়কট করা হচ্ছে।
শুধু মারধর নয়, আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। মোস্তফা হোসেনের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাঁর জমি জোর করে দখল করে সেখানে অবৈধভাবে গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি জেলা আদালত ও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলাটি বর্তমানে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে বিচারাধীন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পুলিশকে মোস্তফা হোসেনকে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অবৈধ গৃহ নির্মাণের অভিযোগে শেখ শাহজাহান আলিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযোগ, এই নির্দেশের পরই তাঁর উপর হামলার ঘটনা ঘটে, যা আরও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। মোস্তফা হোসেন এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি শুধু নিজের রাজনৈতিক মত প্রকাশ করেছি। তার জন্য আমাকে মার খেতে হবে, ঘরছাড়া হতে হবে এটা কি গণতন্ত্র?”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফায়েজ আলির দাদা হাফেজ আলির দাবি, মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁর বক্তব্য, “মোস্তফাই প্রথমে ফায়েজকে আক্রমণ করে। জামা ছিঁড়ে দেয়। ও নিজেই একজন অপরাধী।” তিনি পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করছে এবং সংখ্যালঘু বিজেপি কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, কেউ দোষী হলে তাকে রেয়াত করা হবে না, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগের রাজনীতি মেনে নেওয়া হবে না। ময়নার এই ঘটনা ফের একবার রাজ্যের গ্রামবাংলায় রাজনৈতিক সহিংসতা, সংখ্যালঘু পরিচয় ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।










