নয়াদিল্লি, ৩০ নভেম্বর: জামিয়ত উলেমা-এ-হিন্দ প্রধান মৌলানা মাহমুদ মাদানির সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। “যতদিন অত্যাচার থাকবে, ততদিন জিহাদ থাকবে” জামিয়তের ন্যাশনাল গভর্নিং বডি মিটিং-এ দেওয়া এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ চড়েছে। বিজেপি এই বক্তব্যকে “অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন” ও “দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা” বলে আক্রমণ করেছে।
বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, “জামিয়ত উলেমা-এ-হিন্দ-এর প্রধান মৌলানা মাদানি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু উত্তেজনাপূর্ণ নয়, বরং দেশের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেছেন অত্যাচার হলে জিহাদ হবে। এটি অনুপযুক্ত, বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য।”
পাত্র আরও যোগ করেন, “বিশ্ব দেখেছে কীভাবে কিছু মানুষ জিহাদের নামে সন্ত্রাস ছড়িয়েছে ভারতে এবং ভারতের বাইরে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশে জিহাদের কথা বলাটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট নাকি সরকারের চাপে চলে, যা দেশের বিচারব্যবস্থাকে অপমান করার সামিল। আমি মনে করি, সুপ্রিম কোর্টের উচিত স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এই মন্তব্যের নিন্দা করা।”
২০২৬ CBSE পরীক্ষা মডেলে বড়সড় রদবদল
বিজেপির পাশাপাশি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)–ও মাদানির বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। সংগঠনের জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসল বলেন, “মৌলানা মাদানি দেশের জাতীয়তা, সংস্কৃতি ও বিচারব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জিহাদের নামে মুসলিম যুবকদের প্ররোচিত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যারা নিজেদের দেশের হাতেই আঘাত করছে, তারা প্লেটেই ফুটো করছে যেখান থেকে খায়।”
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মাদানি অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ভোপালের সভায় তিনি বলেন, “জিহাদ, ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুরা জিহাদের মতো পবিত্র ধারণাকে অপমানজনক, সহিংসতার ভাষায় পরিণত করেছে। ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’, ‘এডুকেশন জিহাদ’, ‘স্পিট জিহাদ’—এসব শব্দ ব্যবহার করে মুসলিম সমাজকে অপমান করা হচ্ছে। সরকারে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাও লজ্জাবোধ করেন না। এসব শব্দ মুসলিম সম্প্রদায়কে গভীরভাবে আহত করে।”
তিনি আরও বলেন, “যতদিন অত্যাচার থাকবে, ততদিন জিহাদ থাকবে এর অর্থ এই নয় যে হিংসা হবে। বরং অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, অধিকার রক্ষার লড়াই, ন্যায়বিচারের জন্য প্রতিরোধ—এটাই জিহাদের প্রকৃত অর্থ। কিন্তু রাজনীতি ও মিডিয়ার অপপ্রচারে এই শব্দ বিকৃত করা হয়েছে।” মাদানির এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিরোধীরা থামেনি।
বিজেপি অভিযোগ করেছে, এমন মন্তব্য দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে বিপজ্জনক। অন্যদিকে মুসলিম সংগঠনগুলির একাংশ বলছে, মাদানি জিহাদের প্রকৃত ধর্মীয় অর্থ বোঝাতে চেয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলি সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করছে।
বিতর্ক আরও বেড়েছে কারণ মাদানি অভিযোগ করেন, “মাধ্যমিক আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত, বিচারব্যবস্থা সরকারের চাপে চলে” যা বিচারবিভাগের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে ধর্মীয় ইস্যু কেন্দ্র করে এই সংঘাত আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে সামাজিক কর্মীরা বলছেন, এমন সংবেদনশীল শব্দ ব্যবহার করে রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়, বাড়ে অবিশ্বাস।
