
কলকাতা: বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন বঙ্গে (Matua citizenship)। তার আগে চলছে ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া। মতুয়ারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবে কিনা তা নিয়ে তৃণমূল একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে। এবার দেখা গেল মতুয়াদের হয়ে দরবার করতে CEO দফতরে এলেন সুজন চক্রবর্তী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন যে মতুয়ারা আগে এসেছে তারা নাগরিকত্ব পাবে কিন্তু তার পরে যারা এসেছে তারা পাবে না এমন তা হতে দেওয়া যাবে না।
CEO দফতরেই সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন তিনি। সুজন বলেন মমতা বার বার মতুয়াদের হয়ে দাঁড়ালেও তার কথা কেউ এখন আর মানে না। তিনি আরও বলেন যে মমতা বলেছিলেন যে প্রাণ থাকতে তিনি SIR হতে দেবেন না। কিন্তু SIR হচ্ছে এবং মতুয়ারা পড়েছে সংকটে।
ব্রিগেডে লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম: কর্মসূচি মমতাপন্থী মতুয়া মহাসঙ্ঘের
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে বামেদের এখন মতুয়া প্রীতি জেগে উঠেছে। এমনিতেই বাংলায় বামেরা শূন্য। তাই তারা এখন মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক কে টার্গেট করেছে। পটভূমি স্মরণ করলে বোঝা যায়, বাংলায় ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ছায়ায় SIR প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে নভেম্বর থেকে। নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভোটার তালিকা থেকে জাল, মৃত বা অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া। কিন্তু এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার লোক বিপাকে পড়েছে।
বাংলাদেশ থেকে ১৯৫০-এর দশক থেকে বাংলায় আসা এই হিন্দু শরণার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের অপেক্ষায়। সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন) প্রণয়নের পর তৃণমূল সরকার তাদের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা বললেও, SIR-এ তাদের নথিপত্র যাচাইয়ে অনেকের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিইও মনোজ কুমার অগরওয়ালের অফিসে সুজনের এই দর্শনের পর রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়েছে বামপন্থীদের মতুয়া প্রীতি কি নতুন ভোটব্যাঙ্ক তৈরির চক্রান্ত?
এমনিতেই সিপিআই(এম) এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বাংলায় ভোটের দৈন্য লাইনে। ২০১১-এর পর থেকে তারা শূন্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাট সমর্থনের সম্ভাবনা দেখে বামরা এখন এই কার্ড খেলছে। সুজনের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তারা শুধু নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলছেন না, বরং ইসিআই-এর প্রক্রিয়ার উপরও প্রশ্ন তুলছেন। তিনি বলেছেন, “ইসিআই-এর ১১টি নথির তালিকা কে তৈরি করল? BLO-রা বাইরের লোক হতে পারে, তাহলে কেন BLA (বুথ লেভেল এজেন্ট) নয়? এটা স্বচ্ছতার প্রশ্ন।”










