কুৎসার গুজব! পরে বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে ভাইরাল তৃণমূল বিধায়ক

হুগলি: রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে বিতর্কের নতুন রসদ জোগাল জিরাট (Manoranjan Byapari)বিডি অফিসে ঘটে যাওয়া এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এসআইআর সংক্রান্ত হিয়ারিং চলাকালীন বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ…

manoranjan-byapari-bjp-leader-photo-viral-jirat

হুগলি: রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে বিতর্কের নতুন রসদ জোগাল জিরাট (Manoranjan Byapari)বিডি অফিসে ঘটে যাওয়া এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এসআইআর সংক্রান্ত হিয়ারিং চলাকালীন বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ও একসঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেলেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। আর সেই ছবি ঘিরেই শুরু রাজনৈতিক চর্চা।

Advertisements

ঘটনাটি ঘটে জিরাটের বিডি অফিস চত্বরে। সকাল থেকেই সেখানে চলছিল এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি। বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীও সকাল থেকে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময়ই তাঁর কানে আসে একটি খবর বিজেপি নেত্রী সুমনা সরকার নাকি তাঁর নাম করে মিটিংয়ে ‘আজেবাজে কথা’ বলছেন। প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে চাননি বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট জানান, “এমনটা বলতেই পারে না।”

   

বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের পিছনে মমতার মাথা: দিলীপ ঘোষ

তবে এক ব্যক্তি জোর দিয়ে দাবি করেন, সুমনা সরকার সত্যিই এমন মন্তব্য করেছেন। তখন আর গুজবে কান না দিয়ে সরাসরি বিষয়টি পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। বিডি অফিসের সামনে যেখানে বিজেপি কর্মীরা টেবিল পেতে বসেছিলেন, সেখানেই উপস্থিত ছিলেন সুমনা সরকার। বিধায়ক সোজা গিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন “আমার নামে তুমি নাকি অনেক আজেবাজে কথা বলছো? আমি কী এমন করেছি?”

মনোরঞ্জনকে সামনে দেখেই অস্বস্তিতে পড়ে যান বিজেপি নেত্রী। তাঁর দাবি, তিনি কখনওই বিধায়কের নামে কোনও কুৎসা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি। যিনি এমন কথা বলেছেন, তিনি মিথ্যা বলছেন বলেই জানান সুমনা। এই সরাসরি কথোপকথনের পরেই পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এরপর দু’জনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। মনোরঞ্জন ব্যাপারী স্পষ্ট করে দেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। বিজেপি নেত্রী হিসেবে সুমনা সরকারের রাজনৈতিক সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনিও তৃণমূলের হয়ে বিজেপির রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ যেন না হয় এই শর্তেই কথোপকথন শেষ হয়।

এই সময়ই এক ব্যক্তি তাঁদের ছবি তুলতে শুরু করেন। তখন সুমনা সরকার হালকা হাসির ছলে মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে বলেন, “এই ধরনের ছবি আপনার রাজনৈতিক কেরিয়ারের ক্ষতি করতে পারে।” ঠিক তখনই বিধায়ক যে উত্তর দেন, তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। মনোরঞ্জন বলেন, “ভগবানও আমার ক্ষতি করতে পারেনি, মানুষ আবার কী করবে!”

এই বক্তব্যের পরই দু’জনে একসঙ্গে ছবি তোলেন। সেই ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ এটাকে সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন রাজ্যের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এই ধরনের ছবি কী বার্তা দিচ্ছে?

তৃণমূল শিবিরের একাংশের মতে, মনোরঞ্জন ব্যাপারী বরাবরই স্পষ্টভাষী এবং আত্মবিশ্বাসী নেতা। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক লড়াই আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ দিয়ে নয়। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের একাংশ বলছে, এই ছবি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ হলেও বাস্তব রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা, সেটাই দেখার।

সব মিলিয়ে, জিরাট বিডি অফিসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে এক ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে যেখানে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের মাঝেও মুখোমুখি কথা বলা, ভুল বোঝাবুঝি মেটানো এবং সৌজন্য বজায় রাখার বার্তা উঠে এসেছে। তবে সেই সৌজন্যের ছবি যে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন অধ্যায় খুলে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisements