কলকাতা: কোচবিহারের রাজনৈতিক সভায় মঙ্গলবার মমতা বন্দোপাধ্যায় মন্তব্য করেন যে তৃণমূল (Mamata Banerjee Vote Buying Comment)বিজেপির মত ভোট কেনে না। তৃণমূল মানুষের ভালোবাসায় ভোট পায়। এই মন্তব্যেই মমতার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে ফের বেলাগাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, ‘‘দ্বিচারিতার আর এক নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে বলছেন, তৃণমূল ভোট কেনে না, অন্যদিকে তাঁরই দলের দলবদল করা বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর পূর্ববর্তী মন্তব্য প্রমাণ করে মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।’’
ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নিল মোদী সরকার
শুভেন্দু বলেছেন তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী অতীতে এক সভায় দাবি করেছিলেন মহিলারা তৃণমূলের কাছ থেকে লক্ষ্মী ভান্ডার নেন। মাসে ১০০০ টাকা করে লক্ষ্মী ভান্ডার হলে তা ১২ মাসে ১২০০০ টাকা। এবং সেই হিসেবে ৫ বছরে ৬০ হাজার টাকা। বিরোধী শিবিরের দাবি এই মন্তব্যই প্রমাণ করে যে দেওয়া-নেওয়ার রাজনীতি তৃণমূলের অন্দরে কোনও নতুন বিষয় নয়। যদিও তৃণমূল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
শুভেন্দু আরও বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বক্তব্যেই দুর্নীতির ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে মমতা সভায় তুলনা করেছিলেন “তুমি একা খাবে আর কেউ খাবে না?”, অথবা “সব পাখি মাছ খায়, মাছরাঙার দোষ হয়?” শুভেন্দু মমতার এই স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে মমতা প্রকারান্তরে নিজের দলের দুর্নীতি স্বীকার করছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী বলেন এক, করেন আরেক। মানুষ জানে কে কোথায় পানি ছুঁয়েছে, কে মাছ ধরছে।’’ তাঁর অভিযোগ—সরকারি প্রকল্পের টাকা মানুষের করের অর্থ, ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সেই টাকার বিনিময়ে যদি ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়, তা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।
তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত শুভেন্দুর এই বক্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দলীয় সূত্রের একাংশ বলছে বিরোধী দলনেতার মন্তব্য ‘‘রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ’’ এবং তৃণমূল কোনওদিন ভোট কেনার রাজনীতি করেনি। তাঁদের দাবি, বিজেপি সরকার কেন্দ্রে বসে “এজেন্সি রাজনীতি” করে বিরোধীদের বদনাম করতে চায়।
কোচবিহারের সভার দিনই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তাঁর দল মানুষের পাশে থাকে বলেই মানুষ তাঁদের ভোট দেয়। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার আচরণ, দুর্নীতি অভিযোগ, কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত এই সব বিষয় নিয়ে গত কয়েক বছরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে এই বক্তব্য আরও আগুনে ঘি ঢেলেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, রাজনৈতিক বক্তব্যও তত তীক্ষ্ণ হচ্ছে। উভয় দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে আক্রমণাত্মক কৌশল নিচ্ছে। মমতার মন্তব্য এবং শুভেন্দুর পাল্টা আক্রমণ সেই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল।
