মুর্শিদাবাদের লালবাগ আজ আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে (Lalbagh)। সোমবার, ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার শেষ দিনে লালবাগের এসডিও অফিসের সামনে ভয়াবহ হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা বিজেপির জমা দেওয়া হাজার হাজার ফর্ম-৭ ছিনিয়ে নিয়ে বাইরে এনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তারপর পুলিশের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনা চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যেখানে ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ নাম কাটার জন্য ফর্ম-৭ ব্যবহার করা হচ্ছে।
TMC supporters looted Form 7 submissions from SDM office in Lalbagh, Murshidabad.
They set the pile on fire.
Then they attacked police vehicles.
Now you see how SIR cleaning voter rolls in West Bengal is hurting Momina and how crucial infiltrators are to her? pic.twitter.com/nmKeNKByLF— Abhijit Majumder (@abhijitmajumder) January 20, 2026
বিজেপির দাবি, এতে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কের উপর চাপ পড়ছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকায়।সকাল থেকেই লালবাগ এসডিও অফিসে উত্তেজনা ছিল। বিজেপির মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডলের নেতৃত্বে দলের কর্মীরা হাজার হাজার ফর্ম-৭ নিয়ে এসেছিলেন অভিযোগ, এগুলোতে অবৈধ ভোটারদের নাম কাটার দাবি করা হয়েছে।
দায়িত্ব পেয়েই চলতি মাসে বঙ্গ সফরে নবীন
বিজেপির দাবি, প্রায় ২৭ হাজার ফর্ম ছিল। কিন্তু তৃণমূল কর্মীরা অফিসে ঢুকে পড়ে ফর্মগুলো ছিনিয়ে নেয়। বাইরে এনে একটা স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আগুনের শিখা উঠছে, চারপাশে চিৎকার, ধোঁয়া। তারপর পুলিশের ভ্যানে হামলা জানালা ভাঙা, লাঠি দিয়ে আঘাত। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের মারধর করা হয়েছে, অফিসের ভিতরে আটকে রাখা হয়েছে। অনেকে আহত হয়েছেন।তৃণমূলের তরফ থেকে অভিযোগ উল্টো। প্রাক্তন বিধায়ক সায়নী সিংহ রায় সহ নেতারা বলছেন, বিজেপি বড় করে ফর্ম-৭ জমা দিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম কাটার চক্রান্ত করছিল। এটা নিয়মবিরুদ্ধ। তাই স্থানীয় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ করেছে। তাঁরা দাবি করছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে সংখ্যালঘু ভোটারদের টার্গেট করছে।
মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্ত জেলায় এটা বড় ইস্যু। তৃণমূল নেতা আবু তাহের খান বলেছেন, “বৈধ ভোটারদের নাম কাটার চেষ্টা হলে আমরা প্রতিরোধ করব।” অন্যদিকে বিজেপি বলছে, এটা স্পষ্ট যে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে অনুপ্রবেশকারীদের বড় অংশ রয়েছে। এসআইআর তালিকা পরিষ্কার করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট কমে যাবে। তাই এই হিংসা।
এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে এসআইআর নিয়ে উত্তেজনার অংশ। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও আসানসোল, জামুড়িয়া, হুগলি, বাঁকুড়া একাধিক জায়গায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল গুন্ডারাজ চালাচ্ছে। দলের নেতারা বলছেন, “এটা জঙ্গলরাজের চরম উদাহরণ। নির্বাচন কমিশন নীরব কেন? কেন্দ্রীয় বাহিনী দরকার।” তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ভুয়ো ফর্ম দিয়ে তালিকা নষ্ট করতে চাইছে।
