“সাম্প্রদায়িক জাগো মা ছাড়, সেকুলার গান গা” লগ্নজিতাকে হুমকি তৃণমূল নেতা মেহবুবের

lagnajita-chakraborty-threatened-jago-maa-song

কলকাতা: মঞ্চে গান গাইতে উঠেছিলেন ‘বসন্ত এসে গেছে’ খ্যাত গায়িকা লগ্নজিতা (Lagnajita Chakraborty)। গানের কথায় জাগো মা শব্দ উচ্চারণ করতেই তৃণমূল নেতা মেহবুব মল্লিকের হুমকি। “সাম্প্রদায়িক জাগো মা ছাড়, সেকুলার গান গা।” আর এই ঘটনাতেই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। রীতিমত প্রাণ হাতে করে মঞ্চ থেকে নামতে হল লগ্নজিতাকে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে। সেখানেই একটি গানের অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।

এই নক্কারজনক ঘটনার পরেই সরব হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহল। তারা সমস্বরে একটাই কথা বলছে, ” এই রাজ্যটা কি সত্যি এবারে বাংলাদেশ হয়ে যাবে।” তাদের বক্তব্যে রীতিমত প্রকাশ পেয়েছে ভয় এবং আশংকা। এক গভীর অস্তিত্বের সংকট যেন অশনি সংকেত হয়ে ধরা দিচ্ছে বাংলার মানুষের মনে। মঞ্চে তখন ভক্তদের ভিড়। লগ্নজিতা গাইছিলেন জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক গান ‘জাগো মা’। কিন্তু গানের মাঝেই আচমকা মঞ্চে উঠে আসে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মেহবুব মল্লিক।

   

ম্যারাথনে মেসির মূর্তি কটাক্ষে নিন্দুকদের তুলোধোনা সুজিতের

লগ্নজিতার দাবি, গান গাওয়ার সময় ‘জাগো মা’ শব্দ উচ্চারণ করতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মেহবুব। মঞ্চেই তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, “অনেক জাগো মা হয়েছে, এবার সাম্প্রদায়িক গান ছেড়ে সেকুলার গান গা।” মঞ্চের উপরেই তুই তোকারি করে হুমকিতে স্বভাবতই লগ্নজিতা যথেষ্ট ভয় পেয়ে যান এবং মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। লগ্নজিতা চক্রবর্তী আরও জানান, অভিযুক্ত মেহবুব মল্লিক ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য।

ঘটনার পর তিনি ভগবানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত মামলা দায়ের হয় এবং অভিযুক্ত মেহবুব মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা কড়া ভাষায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ জিহাদিদের হাতে চলে যাচ্ছে। একজন শিল্পী কী গান গাইবেন, সেটাও এখন নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এটা সরাসরি হিন্দু-বিরোধী মানসিকতার পরিচয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছিল। যদিও পুলিশের শীর্ষ মহল জানিয়েছে, শুধু অভিযুক্ত নয়, ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে গাফিলতি করা সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে গভীর উদ্বেগ।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এই রাজ্যটা কি সত্যিই বাংলাদেশ হয়ে যাওয়ার পথে? সম্প্রতি বাংলাদেশে মৌলবাদীরা সংস্কৃতি কেন্দ্র ছায়ানট ভাংচুর করেছে। আর পশ্চিমবঙ্গের মত জায়গায় এই ধরণের ঘটনা ফের প্রমান করে দিচ্ছে বাংলার সংস্কৃতি কোন পথে যাচ্ছে। একদিন হয়তো এই বাংলার সংস্কৃতিও এইভাবে ভেঙে যাবে, পড়ে থাকবে ছায়ানটে ভেঙে পড়ে থাকা সেই হারমোনিয়ামটার মত।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন