বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবক দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে পশ্চিমবঙ্গে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে হিন্দু সংগঠন ‘হিন্দু সংহতি’। সংগঠনের ডাকে শিয়ালদহ থেকে বেকবাগান পর্যন্ত এক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়। হাতে পোস্টার, ব্যানার নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেন প্রতিবাদীরা, তাঁদের গন্তব্য ডেপুটি হাইকমিশনের অফিস। আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতেই এই আন্দোলন।
প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দীপু দাস হত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর বারবার ঘটে চলা হামলা, ভয়ভীতি ও নিপীড়নেরই একটি দুঃখজনক উদাহরণ। হিন্দু সংহতির নেতারা বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কোনো রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব, কিন্তু বাংলাদেশে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না বলেই তাঁদের অভিযোগ।
মিছিল শুরুর আগে শিয়ালদহ চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জানান, প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের খবর বারবার সামনে এলেও আন্তর্জাতিক স্তরে সে বিষয়ে তেমন জোরালো পদক্ষেপ দেখা যায় না। দীপু দাসের হত্যার ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তোলা হয়।
প্রতিবাদকারীদের মতে, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপাসনালয় ভাঙচুর, সম্পত্তি দখল, ভয় দেখানো এবং সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা চান, ভারত সরকার কূটনৈতিক স্তরে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরুক এবং বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সংখ্যালঘু সুরক্ষার প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিক।
মিছিল চলাকালীন এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা রাখা হয় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটে। শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ কর্মসূচি সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে। পুলিশের তরফে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য বিকল্প পথের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
হিন্দু সংহতির এই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন মহল থেকে কেউ কেউ সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে প্রতিবাদকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে নীরব থাকা যায় না, সীমান্তের দুই পারে থাকা মানুষদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দাবি তোলা নাগরিক সমাজের কর্তব্য।
