কলকাতা: কলকাতা পুরসভার নতুন উদ্যোগকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়ল। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC) সম্প্রতি বিশেষ জন্মসনদ শিবির চালু করেছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই জন্মসনদ সংশোধন বা সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু এই পদক্ষেপকেই “চূড়ান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
এদিন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের কাছে খবর আছে যে তৃণমূল এবং তাদের সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন পুরসভা ও পৌরসভায় হাজার হাজার ভুয়ো ও ব্যাকডেটেড জন্মসনদ তৈরি করা হচ্ছে, বিশেষ করে ২০০২ সালের আগের তারিখ দেখিয়ে।”
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে! হাই-অ্যালার্টে আদিয়ালা জেল
দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কেউ যদি আগে জন্মেছে বলে সনদ দেখিয়ে ভোটার হতে চায়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের পারিবারিক নথিপত্রও পরীক্ষা করা উচিত। নয়তো হাজার হাজার মানুষ ব্যাকডেটেড সার্টিফিকেট দেখিয়ে এখানে ভোটার হয়ে যাবে। তৃণমূল একটি সুপরিকল্পিত উপায়ে এই কাজ করছে।”
বিজেপির এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। দিলীপ ঘোষের কথায়, “জন্মসনদ শিবির বলছে, সহজ পরিষেবা দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কার স্বার্থে এই পরিষেবা? নির্বাচন আসছে, আর ঠিক সেই সময়েই হাজার হাজার ব্যাকডেটেড সনদ তৈরি হচ্ছে। এর মাধ্যমে অযোগ্য অনেককে ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তৃণমূল নেতাদের পাল্টা বক্তব্য—এটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ, বিজেপি শুধু বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে। তবে বিতর্ক থামার নাম নেই। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুর্শিদাবাদ সফরকেও নিশানা করেন দিলীপ ঘোষ।
সম্প্রতি তৃণমূলের বিধায়ক হুমায়ুন কবির বাবরি মসজিদের ভিত্তি স্থাপনের দাবি তোলার পরই এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। এ বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “নিজের জায়গায় যে কেউ মসজিদ বানাতে পারেন, এতে আপত্তি নেই। কিন্তু ভারতের মাটিতে বাবরের নামে কোনও মসজিদ হবে না।
আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদে ওরা যাচ্ছিল দেখতে যে ঠিকমতো হচ্ছে কিনা।” তার দাবি, তৃণমূল সরকার ধর্মীয় রাজনীতি করে সংখ্যালঘু তোষণের পথে হাঁটছে এবং তারই ফল হলো এমন বিতর্কিত প্রস্তাবের জন্ম। “মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানো হচ্ছে,” মন্তব্য দিলীপ ঘোষের।
বিজেপির অভিযোগ রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন চাপানউতোর সৃষ্টি করলেও তৃণমূল শিবির বলছে, এই মন্তব্য আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য বিজেপির একটি মরিয়া চেষ্টা। তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, “যখনই মানুষের নতুন কোনও পরিষেবা শুরু হয়, তখনই বিজেপি সেটিকে অন্য পথে ঘোরাতে চায়। সাধারণ মানুষ জানে, কারা তাঁদের কাজ করছে আর কারা শুধু মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছে।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জন্মসনদ ইস্যুটি আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক হয়ে উঠতে পারে। কারণ মৃত্তিকা-স্তরের ভোট রাজনীতিতে পরিচয়পত্র, ডকুমেন্টেশন ও নাগরিকত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলি সবসময়ই অত্যন্ত সংবেদনশীল। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদে মুখ্যমন্ত্রীর সফর এবং বাবরি মসজিদ-সংক্রান্ত মন্তব্য যোগ করায়
দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে যখন একদিকে ভোটার তালিকা ঘিরে স্বচ্ছতার দাবি উঠছে, অন্যদিকে মসজিদ বিতর্কের মতো বিষয় আবারও রাজনীতির মঞ্চকে উত্তাল করে তুলছে। আগামীদিনে এই ইস্যুগুলি কীভাবে রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।
