
খড়্গপুর, ১২ ডিসেম্বর: পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে ফের একবার (BJP Leader Minor Sexual Assault)রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে নাবালিকা যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ। এই অভিযোগেই বিজেপির খড়্গপুর শহর মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি দীপসোনা ঘোষকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করেছে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। অভিযোগ, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে এক বিবাহিত মহিলার নাবালিকা কন্যাকে যৌন নিগ্রহ করেছেন তিনি। এই ঘটনায় পকসো আইন সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
শুক্রবার ধৃতকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে, আর তৃণমূল কংগ্রেস এটাকে হাতিয়ার করে দলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপসোনা ঘোষের বাড়ি খড়্গপুর শহরের সুভাষপল্লি এলাকায়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান উল্কার গতিতে হয়েছে।
দুবছরের ভ্রমণ খরচে রেকর্ড গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী
বিজেপির বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে সামনের সারিতে দেখা যেত তাঁকে। পরবর্তীকালে তিনি খড়্গপুর শহর মণ্ডলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। অভিযোগ, দলীয় সূত্রেই এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন দীপসোনা। সেই সম্পর্কের জেরে ওই মহিলার নাবালিকা কন্যাকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তৎপর হয়।
খড়্গপুর টাউন থানার আইসি পার্থসারথি পালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুভাষপল্লি থেকে দীপসোনাকে গ্রেফতার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে বিএনএস-এর ৩২৯/৪ (শারীরিক ক্ষতি), ১১৫/২ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।এই গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, এর আগেও দীপসোনার বিরুদ্ধে দলেরই এক মহিলা কর্মীর হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময়ও মহিলা কর্মীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ছিল। এই পুনরাবৃত্তি দলের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি, কিন্তু অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাঁরা চুপচাপ দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। অনেকে বলছেন, এই ঘটনা দলের মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।










